নিয়মের তোয়াক্কা না করে সোমবার সকালেই সেন্ট্রাল দিল্লির ৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ! নেপথ্যে কী?

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশকে অগ্রাহ্য করেই কি পদক্ষেপ করল দিল্লি পুলিশ? গতকাল রবিবার শীর্ষ আদালতের তরফে সাফ জানানো হয়েছিল যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর কড়াকড়ি বা আটক করা যাবে না। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মেট্রো চলাচল সীমিত করা হলেও তা সম্পূর্ণ বন্ধ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সোমবার সকাল থেকেই সেন্ট্রাল দিল্লির ৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ জোট আজ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এক বিশাল পদযাত্রার ডাক দিয়েছে। এই প্রতিবাদ মিছিলে রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে সকলকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই মহামিছিলের জেরে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ সকাল ৬টা থেকে দিল্লির প্রায় ৩০টি প্রধান রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও কড়াকড়ি শুরু করেছে পুলিশ। বারাখাম্বা রোডে জমায়েতের পরিকল্পনা থাকায় মান্ডি হাউজ, বারাখাম্বা রোড, জনপথ, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, পাটেল চক এবং রাজীব চক মেট্রো স্টেশনগুলি বিকেল চারটে পর্যন্ত বন্ধ রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে রবিবার শীর্ষ আদালতের ঐতিহাসিক নির্দেশ আসার পর পরই সুপ্রিম কোর্ট চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকার ব্যারিকেড সরিয়ে নিয়েছিল পুলিশ। এমনকি সেখানে জারি থাকা বিএনএসএস ১৬৩ ধারার নোটিসও তুলে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রবিবারের বিক্ষোভে ওই চত্বর থেকে প্রায় ৪০০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে এবং শনিবারের অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে মোট ২০টি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। আজ কংগ্রেসের এই মেগা মার্চ এবং প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার বেড়াজালের মাঝে পড়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।