খনি বিবাদের জেরে রণক্ষেত্র ভরতপুর! দুষ্কৃতীদের হামলায় প্রাণ হারালেন প্রাক্তন বিধায়ক

রাজস্থানের ভরতপুর জেলায় খনি ও ক্রাশার প্ল্যান্টের লিজ কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিবাদ রূপ নিল ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। গ্রামবাসীদের একাংশ ও দুষ্কৃতীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে প্রাণ হারালেন প্রাক্তন বিধায়ক অতার সিং ভাদানা। রবিবার রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জয়পুরের হাসপাতালে স্থানান্তরের পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তাঁর দেহরক্ষী গগন শর্মাও গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাবেক জনপ্রতিনিধির এভাবে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনায় গোটা রাজস্থান জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভরতপুর জেলার বৈর থানা এলাকার ভৌন্ডা ও রায়পুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে স্থানীয় একটি খনি ও ক্রাশার প্ল্যান্টের মালিকপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। খনির লিজ এবং চারণভূমি দখল করে বেআইনি খননকাজ চালানোর পাশাপাশি যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে প্রায় চার বছর ধরে এই টানাটেন ছিঁড়ে আসছিল। গত এক বছর ধরে বন্ধ থাকা সেই ক্রাশার প্ল্যান্টটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক অতার সিং ভাদানা। রবিবার, ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ভাদানা সহ ২০-২৫ জন কর্মী প্ল্যান্টে পৌঁছলে বিবাদ চরম রূপ নেয়।

গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, ভাদানার পক্ষে থাকা ৪০-৫০ জন লোক এসে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষই লাঠি ও পাথর নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, প্রাক্তন বিধায়কের স্ত্রী কমলেশ ভাদানা মারাত্মক অভিযোগ তুলে জানান যে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি সশস্ত্র দল পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান্টে হামলা চালায়। সংঘর্ষ চলাকালীন অতার সিং ভাদানাকে লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয় বলে দাবি করেন তাঁর স্ত্রী। যদিও প্রাথমিক চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা গুলির আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। ঘটনার পর ভরতপুরের বৈর উপ-জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা অবস্থা সংকটজনক দেখে জয়পুরে রেফার করেন, কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৈর থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে প্রচুর পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।