নিট ইউজি-তে নজিরবিহীন নিরাপত্তা! প্রশ্নপত্র পাহারায় এবার বায়ুসেনা ও আধা সেনা, আর কোনো ফাঁক নয়

মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিট ইউজি (NEET UG) নিয়ে গত কয়েক দিনে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি যে চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এবার সেই বিতর্কিত অতীত ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া মোদী সরকার। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা পুনরায় পরীক্ষায় কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। নিট ইউজি-র স্বচ্ছতা ফেরাতে এবার নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এবার নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। অতীতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া বা পৌঁছানোর পথে কারচুপির যে অভিযোগগুলি উঠেছিল, তা রুখতেই এবার এই কড়া অবস্থান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এবার প্রশ্নপত্র তৈরির সময় থেকে তা পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ার দেখভাল করবে ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)। আকাশপথে ও বায়ুসেনার কড়া পাহারায় প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে নির্ধারিত স্থানে।

শুধু প্রশ্নপত্রের সুরক্ষা নয়, পরীক্ষার দিন পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন আধা-সেনা বা প্যারা-মিলিটারি ফোর্সের জওয়ানরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, প্রতিটি স্তরে থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়। কোনো বাইরের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপ যাতে কোনোভাবেই না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। এনটিএ-এর ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলা পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবক মহলে যাতে পুনরায় ভরসা ফেরানো যায়, সেজন্যই কেন্দ্রের এই সামরিক নিরাপত্তা মডেল।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো এনটিএ-এর প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ। প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা যে দেশের মেধাবী পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলছে, তা সরকার বুঝেছে। তাই দায়সারা নিরাপত্তার বদলে এবার সরাসরি সেনাবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২১ জুনের এই পরীক্ষা কেবল একটি প্রবেশিকা পরীক্ষা নয়, বরং এনটিএ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের স্বচ্ছতা প্রমাণের অগ্নিপরীক্ষাও। পড়ুয়ারা যাতে কোনো রকম সংশয় ছাড়াই পরীক্ষায় বসতে পারে, তার জন্য পুরো ব্যবস্থাকেই একটি ‘দুর্গ’ বা ফোর্ট্রেসে রূপান্তর করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই কঠোর নিরাপত্তার আবহে পরীক্ষা কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।