নিজের শিশুকে ফ্রিজে রাখলেন মা! প্রসবোত্তর সাইকোসিসে চাঞ্চল্য, অভিনেত্রীর অভিজ্ঞতায় উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের এক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। প্রসবোত্তর সাইকোসিসে আক্রান্ত এক যুবতী নিজের ১৫ দিন বয়সী সন্তানকে ফ্রিজে রেখে ঘুমাতে যান। তবে শিশুটির করুণ কান্নার আওয়াজ শুনে তার দিদা তাকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনা প্রসবোত্তর মানসিক রোগ সম্পর্কে সমাজের অজ্ঞতা ও অবহেলার দিকটি আবারও তুলে ধরেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৫ই সেপ্টেম্বর। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন তিনি কোনো অলৌকিক শক্তির শিকার হয়েছেন, তাই তারা স্থানীয় তান্ত্রিকের কাছে যান। কিন্তু তাতে কোনো লাভ না হওয়ায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে জানা যায় যে তিনি প্রসবোত্তর সাইকোসিসে ভুগছেন।
এই ঘটনার পর বলিউড অভিনেত্রী ইশিতা দত্ত নিজের প্রসবোত্তর হতাশার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, প্রথম সন্তানের জন্মের পর হরমোনের তারতম্য, শারীরিক ব্যথা এবং ঘুমের অভাবে তিনি চরম মানসিক চাপে ছিলেন। তবে দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে পরিবার ও নিজের সচেতনতা তাকে অনেক সাহায্য করেছে।
চিকিৎসকদের মতে, প্রসব-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হালকা ‘বেবি ব্লু’ থেকে শুরু করে গুরুতর ‘প্রসবোত্তর সাইকোসিস’ পর্যন্ত হতে পারে।
বেবি ব্লু: এটি প্রায়শই নতুন মায়েদের মধ্যে দেখা যায়, যেখানে তারা মেজাজ খিটখিটে হওয়া, কান্না, এবং হঠাৎ আবেগপ্রবণতার সম্মুখীন হন। সাধারণত পারিবারিক সহায়তায় এটি সেরে যায়।
প্রসবোত্তর বিষণ্ণতা: এই অবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী দুঃখবোধ, ক্লান্তি, এবং সন্তানের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলার মতো উপসর্গ দেখা যায়, যা কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে চলতে পারে।
প্রসবোত্তর সাইকোসিস: এটি সবচেয়ে গুরুতর এবং প্রাণঘাতী হতে পারে। এই অবস্থায় মা বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত হন এবং নিজের বা শিশুর ক্ষতির চিন্তাও করতে পারেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলিতে প্রতি পাঁচজন মায়ের মধ্যে একজন প্রসবোত্তর বিষণ্ণতায় ভোগেন। তাই এই সময়ে স্বামীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্ত্রীর বিশ্রামের ব্যবস্থা করবেন এবং ঘরের কাজ ভাগ করে নেবেন। এছাড়াও, পরিবার, বন্ধু এবং কর্মক্ষেত্রের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
মোরাদাবাদের এই ঘটনাটি একটি কঠোর সতর্কবার্তা। প্রত্যেক মায়ের মানসিক সুস্থতা একটি পরিবারের ভিত্তি। তাই প্রসবোত্তর মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও সচেতনতা তৈরি করা এবং প্রতিটি মায়ের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের কর্তব্য।