নাবালকের উপর নির্মম হামলা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসএসকেএম-এ ভর্তি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার অন্তর্গত মল্লিকপুর এলাকায় ঘটে গেল এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ১৫ বছরের এক নাবালককে কোপানোর অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই কিশোরকে ভর্তি করানো হয়েছে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।

আক্রান্ত নাবালকের নাম মহম্মদ তনবীর। মঙ্গলবার রাতে, প্রতিদিনের মতো স্কুল পড়ুয়া তনবীর বাড়ি ফিরছিল। সেই সময়ই আচমকা দুই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক কোপ মারে তনবীরের শরীরে। রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে থাকে কিশোরটি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তনবীরের আর্তনাদ শুনে তাঁরা দ্রুত ছুটে আসেন। তাঁদের দেখে আতঙ্কে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। সঙ্গে সঙ্গেই রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলেটিকে উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাঁকে স্থানান্তর করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।

তনবীরের মা সামসাদ বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার ছেলে তো কোনও ঝামেলায় ছিল না। কে বা কারা, কেন ওর সঙ্গে এমন করল বুঝতেই পারছি না।”

এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বারুইপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, হামলার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনও গোষ্ঠীগত বিবাদ—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে দুষ্কৃতীদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার পাশাপাশি এলাকাবাসীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে এবং দুষ্কৃতীদের দ্রুত পাকড়াও করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।