নাতি-নাতনির অভিভাবকত্ব দাবি করতে পারেন না দাদু-ঠাকুমা, রায় বম্বে হাইকোর্টের

আবেগ যতই গভীর হোক না কেন, দাদু-ঠাকুমা কখনোই নাতি-নাতনির আইনি অভিভাবক হতে পারেন না—সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে এমনটাই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জন্মদাতা বাবা-মায়ের অধিকার খর্ব করে অন্য কেউ সন্তানের অভিভাবকত্ব দাবি করতে পারে না।

কী ছিল সেই মামলা?
ঘটনাটি ছিল পাঁচ বছরের এক শিশুকে নিয়ে। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে শিশুটির বাবা তাকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ৭৪ বছর বয়সী ঠাকুমা এতে রাজি ছিলেন না, কারণ তিনি জন্ম থেকেই শিশুটিকে মানুষ করেছেন এবং তাদের মধ্যে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে, শিশুটির মা রাজি না থাকায় বাবা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

আদালতে ঠাকুমা দাবি করেন, তিনি এবং শিশুটির মধ্যে গভীর আবেগের বন্ধন রয়েছে। কিন্তু বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগে এবং গৌতম অঁখাদের ডিভিশন বেঞ্চ এই দাবি খারিজ করে দেয়।

কেন এই রায়?
আদালত জানায়, কোনো বাবা-মায়ের কাছ থেকে তাদের সন্তানের অভিভাবকত্ব কেবল তখনই কেড়ে নেওয়া যায়, যখন প্রমাণিত হয় যে তাদের কাছে থাকলে শিশুর কল্যাণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু এই মামলায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং, শিশুটির বাবা একজন সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবার শিশুর যত্ন নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণরূপে সক্ষম।

আদালত আরও জানায়, এই ধরনের মামলায় শিশুর কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই আবেগের সম্পর্ক থাকলেও তা আইনি অধিকারকে ছাপিয়ে যেতে পারে না।

আদালতের নির্দেশ:

দুই সপ্তাহের মধ্যে ঠাকুমাকে তাঁর নাতিকে বাবার হাতে তুলে দিতে হবে।

বাবা-মা ঠাকুমাকে শিশুর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেবেন।

এই রায় সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরল, যেখানে পারিবারিক বিবাদ প্রায়শই শিশুদের সুস্থ জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।