নবরাত্রিতে মোদী-যোগীর বড় মাস্টারস্ট্রোক! নারী সুরক্ষায় উত্তরপ্রদেশ সরকারের মেগা উপহার জানলে চমকে যাবেন

শারদীয় নবরাত্রির পবিত্র তৃতীয় দিনে দেবী চন্দ্রঘণ্টার আরাধনায় ব্রতী হয়ে রাজ্যের নারী শক্তির জয়গান গাইলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। দেবী চন্দ্রঘণ্টার পুজো উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X)-এ এক বিশেষ বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সরাসরি দেশের মাতৃশক্তি ও নারীদের সম্মান, আত্মসম্মান এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের প্রতি উৎসর্গীকৃত।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, দেবী চন্দ্রঘণ্টার দিব্য রূপ নারীর মেধা, মর্যাদা এবং অদম্য সাহসিকতার অনন্য প্রতীক। এই মহাশক্তি আমাদের এই চিরন্তন বার্তাই দেয় যে, নারীর সুরক্ষা, সম্মান ও আত্মসম্মান সুনিশ্চিত করাই একটি শক্তিশালী, উন্নত এবং সমৃদ্ধিশালী সমাজের প্রধান ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী দিশানির্দেশ এবং সুশাসনের জাদুকরী ছোঁয়ায় উত্তরপ্রদেশের ডবল ইঞ্জিন সরকার আজ নারী ক্ষমতায়নে একের পর এক নতুন ও যুগান্তকারী মাইলফলক স্থাপন করে চলেছে।

বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, ২০১৭ সালের পূর্ববর্তী অন্ধকার দিনে উত্তরপ্রদেশে নৈরাজ্য ও অপরাধীদের রাজত্ব কায়েম ছিল, যা সাধারণ রাজ্যের নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর এক গভীর কালো ছায়া ফেলেছিল। সেই কুৎসিত সময়ে মা ও বোনদের প্রকৃত ক্ষমতায়নের পরিবর্তে শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবার এবং বিশেষ কিছু ব্যক্তির স্বজনপ্রীতি ও স্বার্থ চরিতার্থ করাই ছিল তৎকালীন প্রশাসনের একমাত্র লক্ষ্য। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছিল এবং রাজ্যের মহিলারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন।

তবে বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান দিয়ে জানান যে, আজ যোগীরাজ্যে নারীদের জীবনযাত্রার মান সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ অভিযানের মাধ্যমে কন্যাভ্রূণ হত্যা রোধ ও শিক্ষার প্রসারে সচেতনতা তৈরি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কন্যা সুমঙ্গলা যোজনার মাধ্যমে মেয়েদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী গণবিবাহ প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র ঘরের কন্যাদের বিবাহকে এক মর্যাদাপূর্ণ ভিত্তি দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনার হাত ধরে মাতৃত্বকালীন সহায়তা, উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে রান্নার ধোঁয়া থেকে মুক্তি, ‘ইজ্জত ঘর’ বা শৌচাগার নির্মাণের মাধ্যমে নারী মর্যাদার সুরক্ষা এবং ‘ঘরৌনি’ প্রকল্পের মাধ্যমে জমির মালিকানা নারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ৬০ বছরের বেশি বয়সের প্রবীণা মহিলাদের জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকার আজীবন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি বাসে ভ্রমণের বিশেষ সুবিধা এবং বার্ধক্য ভাতার মাধ্যমে দৃঢ় সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। শারদীয় নবরাত্রির এই পবিত্র লগ্নে মুখ্যমন্ত্রীর এই জনমুখী বার্তা রাজ্যজুড়ে নারীদের ক্ষমতায়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।