নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিরাট স্বস্তি বিজেপির! হাসিরানির প্রার্থপদ খারিজের আবেদন উড়িয়ে দিল হাইকোর্ট

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চলা দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল বিজেপি শিবির। নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের জন্ম শংসাপত্র এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিপত্রে তথ্যগত অসংগতির অভিযোগ তুলে প্রদেশ কংগ্রেস যে মামলা দায়ের করেছিল, তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে এই মামলার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের ফলে হাসিরানি রথের আসন্ন উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এই মামলার ওপর দীর্ঘ ও বিস্তারিত শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, মামলাকারী প্রার্থীর বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র নিয়ে যে সমস্ত আপত্তি তুলেছেন, তা মূলত তথ্যগত বিভ্রান্তি মাত্র। কিন্তু এই ধরনের সামান্য বা তথাকথিত ভুলের জেরে কোনো প্রার্থীর বৈধ মনোনয়নপত্র বাতিল করা যায় না কিংবা মাঝপথে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা যায় না। নির্বাচন কমিশন যুক্তি দেয় যে, এই ধরনের বিষয়গুলি পরবর্তীকালে ইলেকশন পিটিশন বা নির্বাচনী মামলার বিষয়বস্তু হতে পারে, তবে নির্বাচনের প্রাক্কালে এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কমিশনের এই জোরালো ও যুক্তিগ্রাহ্য বক্তব্যকে পুরোপুরি স্বীকৃতি দিয়েই কংগ্রেসের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
আদালতের এই রায়ের ফলে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক ময়দানে বিজেপি প্রার্থী এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আশ্বস্ত। উপনির্বাচনের ঠিক দোরগোড়ায় বিরোধী কংগ্রেস শিবিরকে আইনি ময়দানে এমন বড় ধাক্কা খেতে হওয়ায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইনি জটিলতার বেড়াজাল কাটিয়ে ওঠার পর এখন পুরোপুরি প্রচারের আলোয় চলে আসতে পারবেন হাসিরানি রথ। নির্বাচন কমিশন এবং আদালতের এই স্পষ্ট বার্তার পর ভোটযুদ্ধের ময়দান এখন আরও বেশি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে, যেখানে সমস্ত বাধা পেরিয়ে লড়াই জমিয়ে তুলতে প্রস্তুত বিজেপি প্রার্থী।