নন্দীগ্রামে খাম প্রতীক নিয়ে বড় ধাক্কা নওশাদের! স্বস্তি পেলেন ঋতব্রত, জানুন বিশদ

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছিল ঠিকই, তবে এবার প্রতীকের জটিলতা কাটতেই ভোটযুদ্ধে বাড়তি অক্সিজেন পেল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করা নিয়ে যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে দূর হলো। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির দায়ের করা সমস্ত মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে আগামী নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের খাম প্রতীকে লড়তে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ে কমিশনের যুক্তিকেই সম্পূর্ণ মান্যতা দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছিল। বিশেষ করে কোন দল বা প্রার্থী কোন প্রতীক নিয়ে লড়াই করবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে দাপাদাপি শুরু হয়। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় খাম প্রতীক পাওয়ার দাবি জানান এবং সেইমতো প্রক্রিয়াও এগোতে থাকে। কিন্তু এর পরেই এই প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর মূল যুক্তি ছিল, এই প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি।
কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চে এই মামলার দীর্ঘ শুনানি চলে। উভয় পক্ষের আইনজীবীরা নিজ নিজ যুক্তির সপক্ষে একাধিক তথ্য ও নথি পেশ করেন। সমস্ত সওয়াল-জবাব শোনার পর নির্বাচন কমিশনের যুক্তিকেই সঠিক বলে রায় দেয় আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন আইনসম্মতভাবেই সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে নওশাদ সিদ্দিকির করা মামলাটি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশের ফলে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে সমস্ত আইনি বাধা দূর হয়ে গেল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল পূর্ণোদ্যমে প্রচারে নামতে পারবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রামের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে খাম প্রতীক নিয়ে এই আইনি স্বস্তি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। একদিকে যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতা কেটে যাওয়ায় প্রচারের মাঠে তাঁরা অনেক বেশি সুবিধাজনক জায়গায় রইলেন। এখন দেখার বিষয়, আইনি লড়াইয়ের এই জয়ের পর নির্বাচনী ময়দানে ভোটারদের মন জয় করতে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস কতটা সফল হয়।