২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা কি তবে বেজে গেল? ২০২৫ সালের শেষ রাজনৈতিক সভা করতে আজ বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় পা রাখছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে দুর্গাপুর-আসানসোলের শিল্পাঞ্চল, অন্যদিকে বাঁকুড়ার কৃষিপ্রধান গ্রামবাংলা— এই দুইয়ের সেতুবন্ধনকারী বড়জোড়া থেকেই আজ আগামী নির্বাচনের সুর বেঁধে দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রটি অত্যন্ত কৌশলগত। এখানে একদিকে যেমন কলকারখানার শ্রমিকদের ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে, তেমনই রয়েছে প্রান্তিক কৃষক ও পরিযায়ী শ্রমিকদের আবেগ। ২০১১ পরবর্তী সময়ে তৃণমূল এখানে শক্ত ঘাঁটি বানালেও, সাম্প্রতিক লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির উত্থান শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সেই হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতেই বছরের শেষে এই মেগা সভার আয়োজন।
বীরসিংহ ময়দানে যুদ্ধের প্রস্তুতি আজ মঙ্গলবার দুপুরে বড়জোড়ার বীরসিংহ ময়দানে জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সভাস্থলে তৈরি হয়েছে ১২০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রশস্ত বিশাল এক মঞ্চ। মুখ্যমন্ত্রীর আগমণ ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। জেলাশাসক সিয়াদ এন এবং পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য নিজে তদারকি করেছেন প্রস্তুতির। তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী হেলিপ্যাড, যেখানে ইতিমধ্যেই ট্রায়াল রান সম্পন্ন হয়েছে। সভায় উপস্থিত থাকবেন সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী ও বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় সহ জেলা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
মমতার নিশানায় কোন কোন ইস্যু? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মূলত তিনটি বড় বার্তা দিতে পারেন:
শিল্প ও কর্মসংস্থান: শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় কর্মসংস্থান নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করবেন তিনি।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা: ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের সুর চড়াতে পারেন মমতা।
সংগঠন সংহতি: ১লা জানুয়ারি থেকে তৃণমূলের যে নতুন প্রচার কর্মসূচি শুরু হচ্ছে, তার ব্লু-প্রিন্ট আজই কর্মীদের হাতে তুলে দিতে পারেন তিনি।
বিশেষ করে SIR (Standard Information Register) নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে বিভ্রান্তি বা হয়রানি তৈরি হয়েছে, তার পাশে দাঁড়িয়ে ভরসা জোগানোই হবে আজকের সভার অন্যতম লক্ষ্য। ২০২৬-এর ‘মিশন বেঙ্গল’-এ বাঁকুড়া ও বর্ধমান শিল্পাঞ্চলকে ফের ঘাসফুল শিবিরে ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রীর এই সভা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।