‘দ্য মার্শিয়ান’ সিনেমার দৃশ্য বাস্তবে! মহাকাশের মাটিতে ফসল ফলিয়ে যুগান্তকারী সাফল্য নাসা বিজ্ঞানীদের

পৃথিবী থেকে কয়েকশো কিলোমিটার উঁচুতে, মাধ্যাকর্ষণহীন মহাশূন্যে এবার দিব্যি ফলল টাটকা শাকসবজি। শুধু ফলানোই নয়, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) বসেই সেই টাটকা পাতা তুলে নিজহাতে রেঁধে খেলেন নভশ্চররা। ভবিষ্যতের দীর্ঘ মহাকাশ অভিযানে কীভাবে নিজেদের রসদ নিজেই উৎপাদন করা সম্ভব, তারই এক চমৎকার ও ঐতিহাসিক ঝলক দেখালেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসা নভশ্চর অনিল মেনন ও তাঁর সহযাত্রী জেসিকা মেইর।

সম্প্রতি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি রোমাঞ্চকর ভিডিও শেয়ার করেছেন অনিল মেনন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মহাকাশ স্টেশনের ভেতরে বিশেষ বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থায় ফলানো অত্যন্ত পুষ্টিকর কেল (Kale) এবং ওয়াসাবি মাস্টার্ড শাকের সতেজ পাতাগুলো পরম যত্নে কেটে তুলে আনছেন তাঁরা। প্রায় এক মাস ধরে নাসার বিশেষ গবেষণা প্রকল্পের অধীনে এই শাকসবজি চাষ করা হয়েছিল। এরপর মহাকাশেই সেগুলি দিয়ে তৈরি করা হয় এক অভিনব, সুস্বাদু ও টাটকা খাবার।

ভিডিওটি পোস্ট করে উচ্ছ্বসিত অনিল মেনন লিখেছেন, “আমাদের এই বিশেষ পর্বে রইল একেবারে ‘ফার্ম-টু-টেবিল’ অভিজ্ঞতা—খুবই সহজ এবং সুস্বাদু খাবার। এই কেল এবং ওয়াসাবি শাক আইএসএস-এ পুরো এক মাস ধরে যত্ন সহকারে বড় করা হয়েছে। আমরা বেশ কিছু পাতা তুলে সুস্বাদু রান্না করে তা পরীক্ষার টেবিলে রাখলাম। মহাকাশে এখনও পর্যন্ত আমাদের রান্না করা খাবারের মধ্যে এটি নিশ্চিতভাবেই সেরা হতে পারে! নাসার ‘ভেজি’ (Veggie) টিমকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের গাছ বড় করার এই সহজ ও কার্যকরী কৌশল শেখানোর জন্য, যা আগামী দিনে সুদূর মহাকাশ অভিযানের খাদ্য সংস্থানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেবে। হলিউডের বিখ্যাত ‘দ্য মার্শিয়ান’ ছবির কাল্পনিক চরিত্র মার্ক ওয়াটনিও আজকের এই দৃশ্য দেখলে নিশ্চয়ই দারুণ গর্বিত হতেন!”

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই পুরো সফল পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে নাসার নিজস্ব ‘ভেজি প্ল্যান্ট-গ্রোথ চেম্বার’-এর ভেতরে। মূলত জিরো গ্র্যাভিটি বা মহাকর্ষহীন পরিবেশে উদ্ভিদের শারীরিক প্রতিক্রিয়া ও তার দ্রুত বৃদ্ধি নিখুঁতভাবে বোঝার জন্যই বিজ্ঞানীদের এই বিশেষ উদ্যোগ। চাঁদ বা লাল গ্রহ মঙ্গলে দীর্ঘমেয়াদী মানব অভিযানের ক্ষেত্রে এই গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে। প্যাকেটজাত শুকনো খাবারের ওপর চিরকাল নির্ভরশীল না থেকে নিয়মিত টাটকা সবুজ শাকসবজি খেতে পারলে নভশ্চরদের শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি যেমন পূরণ হবে, তেমনই দীর্ঘ দিন মহাকাশে কাটানোর মানসিক একঘেয়েমি কাটিয়ে তাদের মনোবল বাড়াতেও এটি দারুণভাবে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, পৃথিবী থেকে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিপুল পরিমাণ খাদ্যবাহী রকেট পাঠানোর ঝামেলাও বহুলাংশে কমবে।