‘দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে…’, বিজয়া দশমীতে ইন্দ্রপ্রস্থ রামলীলায় দাঁড়িয়ে হুঙ্কার মোদীর

মঙ্গলবার দিল্লির ঐতিহাসিক ইন্দ্রপ্রস্থ রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য দশেরা উৎসবে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজয়া দশমীর এই পুণ্য তিথিতে অশুভ শক্তিকে সম্পূর্ণরূপে বিনাশ করে শুভ শক্তির চিরন্তন জয়কে অত্যন্ত সশ্রদ্ধচিত্তে উদযাপন করেন তিনি। সমগ্র দেশবাসীকে সত্য, ন্যায় ও সনাতন সংস্কৃতির চিরস্থায়ী মহাশক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে জাতীয় নিরাপত্তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি। দিল্লির এই মহা মঞ্চ থেকে তিনি সাফ জানান, ভারতকে ভিতর থেকে বিভক্ত করার যেকোনো ধরনের কুৎসিত প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও সামাজিক লড়াই চালাতে হবে এবং যে কোনো মূল্যে দেশের শত্রুদের একজোটে পরাস্ত করতে হবে।

জনসমুদ্রের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবেগঘন সুরে বলেন, “বিজয়া দশমীর এই পবিত্র ও শুভলগ্নে আমি পরম প্রভু শ্রীরাম, মা জানকী এবং সংকটমোচন বজরংবলীর চরণকমলে বিনম্র প্রণাম জানাই। এই পুণ্যময় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে আমি সমগ্র ভারতের কোটি কোটি নাগরিককে বিজয়া দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।” প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, ভগবান শ্রীরামের উচ্চ আদর্শ এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা রামলীলার মহিমান্বিত ঐতিহ্য আজও সমগ্র ভারতবর্ষকে একটি অখণ্ড সুতোয় বেঁধে রেখেছে। ভারতের প্রতিটি ছোট-বড় গ্রাম ও শহরে এই পরম উৎসব অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে।

জাতীয় স্বার্থ ও সুরক্ষার তাগিদে দেশকে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা একাধিক বৈদেশী আক্রমণ, শোষণ ও লুটপাটের স্মৃতি কাটিয়ে ভারত এখন নিজস্ব গৌরবময় পরিচিতি ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করছে। মোদী তথ্য দিয়ে উল্লেখ করেন যে, বিগত ১২ বছরে বিদেশ থেকে ৬০০টিরও বেশি মূল্যবান প্রাচীন মূর্তি ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “আমাদের জাতীয় চিন্তাধারা অভিন্ন ও সুদৃঢ় হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। দেশহিত ও জাতীয় স্বার্থে ভারতের সমস্ত প্রতিষ্ঠান, সামাজিক কমিটি এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলকে ভেদাভেদ ভুলে একসূত্রে গ্রথিত হতে হবে। এই মানসিকতা নিয়েই আমাদের আগামীর পথ চলতে হবে। যারা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে, আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে— এরাই দেশের আসল শত্রু, যাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

পাশাপাশি, ভারতকে সম্পূর্ণ রূপে ‘আত্মনির্ভর’ হিসেবে গড়ে তোলার শপথ পুনর্ব্যক্ত করেন মোদী। তিনি স্পষ্ট জানান, যেকোনো জাতি কেবল তখনই সার্বিক উন্নতি করতে পারে, যখন তার মধ্যে গভীর আত্মমর্যাদাবোধ জেগে ওঠে। নিজের দেশীয় সম্পদের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রাখতে হবে এবং নিজেদের সুদৃঢ় সংকল্পকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাস্তব রূপ দিয়ে সমস্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।