দুর্যোগের মাঝেই মানবিকতার ছবি! মুসৌরিতে আটকা পড়া পর্যটকদের জন্য বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, কীভাবে সম্ভব?

উত্তরাখণ্ডে মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সাধারণ জীবন। রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিধস এবং রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মুসৌরি থেকে দেহরাদুন যাওয়ার রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা।

মুসৌরির বাসিন্দা মুকেশের কিডনির সমস্যা। সপ্তাহে দু’বার ডায়ালিসিস নিতে হয় তাকে। কিন্তু প্রবল বৃষ্টির কারণে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় তিনি হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছিলেন না। অবশেষে বুধবার মুসৌরির আইটিবিপি হেলিপ্যাড থেকে আরও ১১ জন রোগীর সঙ্গে হেলিকপ্টারে করে তাকে দেহরাদুনে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

দুর্ভোগের পাশাপাশি মানবিকতার ছবি

এই দুর্যোগের মাঝেই এক মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মুসৌরির হোটেল মালিকরা। মুসৌরির ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি রজত আগরওয়াল জানান, দুর্যোগে আটকা পড়া প্রায় ৫১১ জন পর্যটককে তারা বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তিনি বলেন, “মানুষ বিপদে পড়েছেন, এই সময় আমরা পয়সা-পিশাচের মতো আচরণ করতে পারি না।” এই পদক্ষেপটি মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মঙ্গলবার ভোরে দেরাদুনের সহস্ত্রধারায় মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং ১৬ জন নিখোঁজ হয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার কাজ চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে ১৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও, প্রায় ১৩টি সেতু এবং ২১টি রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১.৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু আবাসিক বাড়ি, হোটেল এবং রেস্তোরাঁও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুসৌরি সহ বেশ কিছু এলাকা দেশের বাকি অংশের সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।