দুর্নীতির অভিযোগে নিশানা এনডিএ-র হেভিওয়েটরা! জন সুরজের নয়া কৌশল কি তরুণ ভোটারদের টেনে এনে সমীকরণ পাল্টে দেবে?

যদিও জন সুরজ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন জিততে পারবে না, কিন্তু একটি ‘ভোট-কাটার’ (vote-splitter) হিসেবে এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে, যা চিরাচরিত ভোট-ব্যাংকের সমীকরণকে এলোমেলো করে দেবে। এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA)।

ব্রাহ্মণ সমাজের প্রতিনিধি প্রশান্ত কিশোর সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে নিশানা করে বলেছেন, জেডি(ইউ) ২৫টিরও কম আসন পেতে পারে এবং তাঁর শাসনকে ‘আমলাতান্ত্রিক জঙ্গলরাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। জন সুরজের প্রচারের মূল ফোকাস শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন সংস্কারের উপর, যা ক্ষমতাসীন জোটের উপর ক্ষুব্ধ তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রবলভাবে সাড়া ফেলেছে।

কিশোর পরিষ্কার জানিয়েছেন, তাঁর দল এনডিএ এবং মহাগঠবন্ধন—উভয় জোটের ভোটেই ভাগ বসাতে চায়, যা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আসনগুলিতে ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

২০২০ সালের এলজেপি (LJP) মডেলের ছায়া:
জন সুরজ নিজেকে তৃতীয় মেরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে এবং ২০২০ সালের লোক জনশক্তি পার্টি (LJP)-র ভূমিকার সঙ্গে এর তুলনা টানা হচ্ছে। সে বছর চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি ১৩৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, একটিতেও না জিতলেও ৭৩টি আসনে (প্রধানত জেডি(ইউ)-র বিরুদ্ধে) জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিল। এবার, জন সুরজ বিহারের সবক’টি ২৪৩টি আসনে লড়ার পরিকল্পনা করেছে, যা এর প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এছাড়াও, জন সুরজ সব সম্প্রদায় থেকে প্রার্থী দিয়ে বিহারের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত জাতিভিত্তিক ভোটব্যাংকে ফাটল ধরাতে চাইছে। কোন আসনে কেমন প্রার্থী দেওয়া হয়, তার উপরেই নির্ভর করবে দলটি এনডিএ না মহাগঠবন্ধন—কার ভোট বেশি কাটবে।

এনডিএ-র হেভিওয়েট নেতারাও নিশানা:
জন সুরজের প্রচারে বিজেপি-র দিলীপ জয়সওয়াল, সাংসদ সঞ্জয় জয়সওয়াল, উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং জেডি(ইউ)-র অশোক চৌধুরীর মতো এনডিএ-র প্রবীণ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছে (যদিও তাঁরা সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন)। এই ইস্যুগুলি সামনে এনে জন সুরজ একদিকে যেমন সরকার-বিরোধী মনোভাবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, তেমনই নিজেকে দুই প্রধান জোটের একটি বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে।

তবে, সাংগঠনিক শক্তি এবং সুস্পষ্ট আদর্শিক ভিত্তির অভাবের কারণে জন সুরজ তার ভোটকে আসনে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। সীমিত সাংগঠনিক শক্তি সত্ত্বেও, জন সুরজ বিহারের নির্বাচনী পাটিগণিতকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা একে কেবল একটি ‘ভোট-কাটার’ নয়, বরং নির্বাচনের একটি নিশ্চিত ‘X-ফ্যাক্টরে’ পরিণত করেছে।