কলকাতা সংলগ্ন গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকার ৪০ বছরেরও বেশি পুরনো, ঐতিহাসিক সি–৫ বাসস্ট্যান্ডটি হঠাৎই উধাও হয়ে যাওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় নিত্যযাত্রী, বাসচালক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘মেলার আয়োজন’-এর নাম করে বাসস্ট্যান্ডের পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়েছে, যার ফলে ২০০টিরও বেশি বাস ছাড়ার এই কেন্দ্র আজ কার্যত অচল।
শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রমোটিং চক্রের মদতের অভিযোগ
ঘটনার পরই এই বিষয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বর্ষীয়ান বামনেতা সুজন চক্রবর্তী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, শাসকদলের মদতে একটি প্রমোটিং চক্র এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটির দখল নিয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, এখানে দ্রুত বহুতল নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। এই ঘটনা নিয়ে শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর উঠেছে। রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পিন্টু মণ্ডলের বিরুদ্ধেও দখলদারির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
প্রসঙ্গত, বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন এই সি–৫ বাসস্ট্যান্ড ঘিরেই আন্দোলন করেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ এখন তাঁর দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে স্থানটি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
নিত্যযাত্রী ও বাসচালকদের চরম দুর্ভোগ
বাসস্ট্যান্ড রাতারাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিত্যযাত্রী এবং বাস-কর্মীরা। আগে যেখানে প্রতিদিন ২০০টিরও বেশি বাস হাওড়া, বিবাদীবাগ, পাইকপাড়া, কলকাতা স্টেশন-সহ বিভিন্ন রুটে চলাচল করত, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৫০-এ।
বাসচালকের অভিযোগ: বাসচালক অরূপ চন্দ্র জানান, বাসস্ট্যান্ড না থাকায় যাত্রীদের গালাগাল শুনতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
ভবিষ্যতের আশঙ্কা: আরেক চালক গোপীনাথ সরদারের আশঙ্কা, বাস কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
যাত্রীদের দুর্দশা: যাত্রী তপন নস্কর বলেন, বাস ধরতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিধায়কের আশ্বাস
সোনারপুর উত্তর বিধানসভার বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। রাস্তার উন্নয়ন করা হলেও বাস রাখার বিকল্প ব্যবস্থা এবং বাসস্ট্যান্ডের জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তবে, স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীরা অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।