দুর্গাপূজা এবার সারা বছর! নিউ টাউনে তৈরি হচ্ছে বিশাল ‘দুর্গা অঙ্গন’, জেনে নিন বিস্তারিত

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘দুর্গা অঙ্গন’-এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। কলকাতার নিউ টাউনে ইকো পার্কের উল্টো দিকে, ওয়েস্টিন হোটেলের লাগোয়া জমিতে এই বিশাল প্রকল্পটি গড়ে উঠছে। প্রায় ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে হিডকো।

গত ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম ‘দুর্গা অঙ্গন’ তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন। এরপর আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজ্য মন্ত্রিসভা এর অনুমোদন দেয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬১ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা এবং নির্মাণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ বছর। অর্থাৎ, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

হিডকোর এক আধিকারিক ইটিভি ভারতকে জানিয়েছেন, “আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। প্রথম ধাপে ১২.৬ একর জমি সমতল করার কাজ চলছে।”

এই প্রকল্পটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোরদার আলোচনা চলছে। স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা-নেত্রীরা, এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও কলকাতায় এলে যে হোটেলে থাকেন, সেই ওয়েস্টিন হোটেলের পাশেই তৈরি হচ্ছে ‘দুর্গা অঙ্গন’। সমালোচকদের মতে, বিজেপির ‘তোষণ’ রাজনীতির অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতেই মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের ধর্মীয় প্রকল্পে জোর দিচ্ছেন। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছেন, তিনি সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাসী।

এর আগে দিঘায় জগন্নাথধাম নির্মাণও হিডকোর তত্ত্বাবধানেই হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এই প্রকল্পকে অনেকেই মমতার হিন্দু ভোটব্যাংককে আকৃষ্ট করার কৌশল হিসেবে দেখছেন।

এই প্রকল্পের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হিডকোর নেতৃত্বে পরিবর্তন। এতদিন এই সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু সম্প্রতি তাকে সরিয়ে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, হিডকোকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে থাকা প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মিবর্গ দফতরের অধীনে আনা হয়েছে। এর ফলে, প্রকল্পটি এখন সরাসরি নবান্নের নজরদারিতে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের প্রকল্প জনসমর্থন বাড়াতে বড় ভূমিকা নেবে। একদিকে এটি যেমন মমতার সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা বহন করবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চেও এটি একটি বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, নিউ টাউনে খুব শিগগিরই মাথা তুলতে চলেছে এক নতুন স্থাপত্য, যা বাংলা তথা ভারতের অন্যতম এক ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক প্রতীক হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।