দুর্গাপুজোর বিজ্ঞাপনে পুরসভার চরম কড়াকড়ি! ৩ অক্টোবরের আগে হোর্ডিং টাঙালেই হতে পারে বড় জরিমানা, রইল কেএমসি-র নতুন নিয়ম

দুর্গাপুজোর বিজ্ঞাপনে পুরসভার কড়াকড়ি: এনওসি ছাড়া মিলবে না অনুমোদন, বেঁধে দেওয়া হলো সময়সীমা ও উচ্চতা

দুর্গাপুজোর দিনগুলোয় কলকাতার রাস্তাঘাট ছেয়ে যায় নানা রঙিন হোর্ডিং, ব্যানার ও বিজ্ঞাপনী গেটে। তবে এবার আর যে কেউ যেখানে-সেখানে যেমন-তেমন বিজ্ঞাপনী ব্যানার বা হোর্ডিং বসাতে পারবেন না। উৎসবের মরসুমে শহরের সৌন্দর্য রক্ষা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অস্থায়ী বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নিয়েছে কলকাতা পুরসভা (কেএমসি)। পুরসভার স্পষ্ট বার্তা— অনুমতি বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ছাড়া শহরের রাস্তায় বিজ্ঞাপনের একটি ফ্লেক্সও টাঙানো যাবে না।

পুরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুজো কমিটিগুলোকে অস্থায়ী বিজ্ঞাপনের জন্য এনওসি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এর জন্য আবেদন জমা দেওয়ার দিন ও সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

এনওসি আবেদনের সময়সীমা ও নিয়মাবলি:

  • আবেদনের সময়: আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এনওসি-র জন্য আবেদন জানাতে হবে।

  • সময়সূচি: নির্দিষ্ট পুর দফতরে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে।

  • প্রয়োজনীয় তথ্য: শুধুমাত্র পুজো কমিটির নাম জানালেই চলবে না; কোন ওয়ার্ড বা বরোর অন্তর্গত কোন রাস্তায় বিজ্ঞাপন বসবে, কতগুলো বিজ্ঞাপন টাঙানো হবে এবং তার আকার কেমন হবে— সেই সব তথ্য বিস্তারিত জানাতে হবে।

  • আইডি নম্বর: অনুমতি মিললে পুরসভার তরফে একটি নির্দিষ্ট এনওসি বা আইডি নম্বর দেওয়া হবে। সেই নম্বরটি বিজ্ঞাপনের গায়ে স্পষ্টভাবে লিখে রাখতে হবে।

৩ অক্টোবরের আগে বিজ্ঞাপন নয়, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে অপসারণ: পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী, ৩ অক্টোবরের আগে শহরের রাস্তায় কোনও পুজোর অস্থায়ী বিজ্ঞাপন লাগানো যাবে না। শুধু তা-ই নয়, পুজো শেষ হওয়ার পর ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত অস্থায়ী বিজ্ঞাপনী কাঠামো পুজো কমিটিকেই সরাতে হবে।

গত বছর পুজো শেষ হওয়ার পরও প্রায় ৩০০টির মতো হোর্ডিং ও বাঁশের কাঠামো রাস্তায় পড়ে ছিল, যা পুরকর্মীদের সরাতে হয়েছিল। এবার আর সেই ঢিলেঢালা মনোভাব বরদাস্ত করবে না পুর প্রশাসন।

উচ্চতা ও স্থান নির্বাচনে করা নির্দেশিকা:

  • উচ্চতার সীমা: মাটি থেকে সর্বোচ্চ ২২ ফুট পর্যন্ত উঁচু করা যাবে অস্থায়ী বিজ্ঞাপনী কাঠামো। তার চেয়ে বেশি উঁচু কাঠামো তৈরি করা যাবে না।

  • স্থান নির্দেশ: রাস্তার নামের ফলক, ট্র্যাফিক সাইনেজ, অনুমোদিত স্থায়ী হোর্ডিং বা দোকানের সাইনবোর্ড ঢেকে কোনো বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না।

  • যান চলাচল ও আলো: রাস্তার আলো, বাসস্ট্যান্ডের দৃশ্যমানতা কিংবা পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে— এমন জায়গায় ফ্লেক্স ঝুলানো যাবে না।

  • ডিভাইডার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: রাস্তার মাঝের ডিভাইডার বা মিডিয়ান ভার্জেও কোনও ধরনের অস্থায়ী হোর্ডিং বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বিজ্ঞাপনে থাকা চাই পুজো কমিটির বিস্তারিত তথ্য: প্রতিটি বিজ্ঞাপনের ব্যানার বা ব্যানারের কাঠামোর ওপর পুজো কমিটির নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, পুজোর রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং কেএমসি-র দেওয়া এনওসি নম্বর পরিষ্কারভাবে লেখা থাকতে হবে। এতে করে রাস্তায় থাকা বিজ্ঞাপনটি বৈধ কি না, তা সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

আইন ভাঙলে কড়া জরিমানা: কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন নীতি অনুযায়ী, নির্ধারিত এনওসি ছাড়া বা নিয়ম ভেঙে বিজ্ঞাপন বসালে সেটিকে অননুমোদিত বলে গণ্য করা হবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলার খরচের পাশাপাশি নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুরসভা।

Aditi Banik
  • Aditi Banik