জোড়াফুল হাতছাড়া, বাতিল হতে পারত মনোনয়নও! উপনির্বাচনের আগে মমতার দলকে বাঁচাল কমিশন, দিল কী কড়া বার্তা?

তৃণমূলের প্রতীক-বিতর্কে নির্বাচন কমিশনের বড় পদক্ষেপ, বাঁচল দুই শিবিরের মনোনয়ন
উপনির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে চরম রাজনৈতিক নাটকীয়তার সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও নাম নিয়ে চলা অভ্যন্তরীণ বিরোধের মধ্যে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল, মূল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে রেজিনগর, নন্দীগ্রাম ও অসমের নগাঁও উপনির্বাচনে দুই পক্ষকেই নতুন নাম ও পৃথক প্রতীকে লড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা না হলে উভয় গোষ্ঠীর প্রার্থীদের মনোনয়নই বাতিল হয়ে যাওয়ার ভয়াবহ আশঙ্কা ছিল।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন প্রতীক (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) আদেশ, ১৯৬৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামলাটি কমিশনের কাছে ‘Dispute Case No. 01 of 2026’ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। যতদিন না এই বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তি হচ্ছে, ততদিন কোনো গোষ্ঠীই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা সংরক্ষিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।
নতুন দলীয় পরিচয় ও প্রতীক
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উপনির্বাচনে দুই গোষ্ঠীর পরিচয় হবে নিম্নরূপ:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী:
নতুন নাম: মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস
বরাদ্দ প্রতীক: ফুটবল খেলোয়াড়
স্বীকৃতি: পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় স্বীকৃত দল হিসেবে গণ্য হবে।
অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী:
নতুন নাম: ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস
বরাদ্দ প্রতীক: খাম
স্বীকৃতি: পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় স্বীকৃত দল হিসেবে গণ্য হবে।
কোন আসনে কার হাতে কোন প্রতীক?
উপনির্বাচনের ময়দানে কোন প্রার্থী কোন নতুন পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা-ও সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে কমিশন:
রেজিনগর: অরূপ রায় অনুমোদিত সফিউজ্জামান শেখ লড়বেন ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’-এর ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুমোদিত রাহিবুল আলম চৌধুরী লড়বেন ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকে।
নন্দীগ্রাম: অরূপ রায়ের অনুমোদিত প্রার্থী এহতেশমুল হক পেলেন ‘খাম’ প্রতীক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদিত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান (দে) লড়াই করবেন ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ চিহ্ন নিয়ে।
নগাঁও (অসম): লোকসভা উপনির্বাচনে মমতা শিবিরের প্রার্থী আব্দুল সালামও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর হয়ে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকে।
কেন এই জরুরি পদক্ষেপ করতে হলো কমিশনকে?
কমিশনের আদেশে বলা হয়েছে, মূল নাম ও প্রতীক স্থগিত থাকা সত্ত্বেও নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে একই পুরনো দলের নাম ব্যবহার করে দুই পক্ষের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন যদি সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং ১৯৬৮ সালের প্রতীক আদেশের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ না করত, তবে আইনি জটিলতায় রিটার্নিং অফিসারদের উভয় পক্ষের প্রার্থীপদই বাতিল করে দিতে হতো।
এর ফলে ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হতো এবং অবাধ নির্বাচনী লড়াই ক্ষতিগ্রস্ত হতো। তাই কমিশন দুই শিবিরের জন্য পথ সহজ করে দিল। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রতীক মিললেও জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ৩৬ ধারা অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের বাকি সমস্ত আইনি ও বিধিবদ্ধ শর্ত প্রার্থীদের নিখুঁতভাবে পূরণ করতে হবে। এই বিষয়ে নন্দীগ্রাম, রেজিনগর ও নগাঁওয়ের রিটার্নিং অফিসারদের ১৮ সেপ্টেম্বরের মনোনয়ন যাচাই পর্বের সময় কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।