‘দুর্গাপুজোয় না পারলে কালীপুজোয় করুন!’ বনগাঁ-নৈহাটি বুক স্টল বিতর্কে আদালতের চাঞ্চল্যকর মন্তব্য!

আজ দ্বিতীয়া, আর ঠিক চার দিন পরেই বাঙালির সবচেয়ে বড়ো উৎসব দুর্গোৎসব। কিন্তু মহোৎসবের এই আনন্দঘন মুহূর্তের প্রাক্কালেই বামেদের বইয়ের স্টল করার অনুমতি দেওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে উঠেছে চাপানউতোর। এই সংক্রান্ত বিতর্কের জল অবশেষে গড়িয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত। দুর্গাপুজোর মরশুমে বুক স্টল বসানোর অনুমতি না মেলায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিএম। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে সিপিএমের আইনজীবীকে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এক প্রকার মজার ছলেই পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘‘দুর্গাপুজোয় না হলে কালীপুজোয় বুকস্টল করুন।’’
কিছুদিন আগেই উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এবং নৈহাটিতে দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে দুটি বুকস্টল করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছিল সিপিএম নেতৃত্ব। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন সেই আবেদন খারিজ করে দেয় এবং বুক স্টল করার অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ। এর পরেই প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিএম। সোমবার এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানান বাম শিবিরের আইনজীবী।
সিপিএমের আইনজীবী দ্রুত শুনানির আবেদন জানালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন যে, এই মুহূর্তে মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানির কোনো প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করছেন না। বিচারপতির এই মন্তব্যের পরেই সিপিএমের আইনজীবী আর্জি জানান, ‘‘দয়া করে মামলাটি ছেড়ে দিন, আমরা অন্য কোনো এজলাসে গিয়ে চেষ্টা করব। কারণ পুজোর দিনগুলো কেটে গেলে এই মামলার আর কোনো কার্যকারিতা বা গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।’’ এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আগামী কালই এই মামলাটি তাঁর এজলাস থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
উৎসবের মরশুমে প্রতি বছরই বামেদের বিভিন্ন শাখা সংগঠন ও পার্টির পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মতাদর্শ প্রচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপের আশেপাশে বইয়ের স্টল দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর বনগাঁ ও নৈহাটির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি অনুমতি না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাম শিবির। বিরোধী দলের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে বই বিক্রির সুযোগ থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের তরফ থেকে নিরাপত্তার কারণ বা ভিড় নিয়ন্ত্রণের যুক্তি দেখানো হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে অন্য কোনো বেঞ্চে এই মামলার সুরাহা হয় কি না এবং পুজোর কদিন বামেরা তাদের ঐতিহ্যবাহী বুক স্টল বসানোর অনুমতি আদায় করতে পারে কি না।