দুপুর ১২.৩০ থেকে ৪.৩০-র মধ্যে কী এমন ঘটল? শুধুই কি অসুস্থতার কারণে ইস্তফা ধনখড়ের, নাকি অন্য কারণ?

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক ইস্তফা ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠিতে ধনখড় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানালেও, তাঁর পদত্যাগের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার দিন সকালেও রাজ্যসভার ভাইস চেয়ারম্যানের আসনে থাকা ধনখড়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন কী ঘটল, তা নিয়ে কংগ্রেস বলছে, ‘কারণটা গভীরতর’।
জানা গেছে, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সংসদের বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠক ছিল। এই বৈঠকে অধিবেশনে কখন, কী নিয়ে আলোচনা হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজ্যসভার দলনেতা জে পি নাড্ডা এবং সংসদ বিষয়ক পরিষদীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কিছুক্ষণ আলোচনার পর ঠিক হয় যে, কমিটি সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টেয় আবারও বৈঠকে বসবে।
সেই মতো সাড়ে ৪টেয় বৈঠক বসে। চেয়ারে জগদীপ ধনখড়ও বসেন। কিন্তু জে পি নাড্ডা এবং কিরণ রিজিজুকে দেখা যায়নি। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেও তাঁদের অনুপস্থিতির কোনো কারণ জানানো হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত বৈঠক বাতিল করে দিতে হয়। মঙ্গলবার বেলা ১টায় বৈঠক হবে বলে জানিয়ে দেন ধনখড়। এই পুরো ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি আচমকা পাল্টে যায়।
রাত ৯টার পর রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া ধনখড়ের ইস্তফাপত্র প্রকাশ্যে আসে। সেখানে তিনি পদত্যাগের কথা জানান। এদিন সন্ধ্যায় বিরোধী সাংসদদের অনেকেই বিভিন্ন কারণে ধনখড়কে ফোন করেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিক কথোপকথনও হয়। এর পরই কী এমন ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। কংগ্রেসের মহাসচিব জয়রাম রমেশ মন্তব্য করেছেন, ‘গভীরতর কারণ রয়েছে।’ কংগ্রেস নেতা এক্স (পূর্বে ট্যুইটার) মাধ্যমে যে পোস্ট করেছেন, তাতেও প্রশ্ন উঠেছে যে, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টের মধ্যে কিছু একটা ঘটেছে!
আরও একটি প্রশ্ন উঠেছে – বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে ধনখড়ের অতি সক্রিয়তাই কি তাঁর হঠাৎ ইস্তফার নেপথ্য কারণ? নাকি সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে বিরোধীদের ইমপিচমেন্ট (অনাস্থা) নোটিস মেনে নেওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সরকার চেয়েছিল যে বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে তাদের উদ্যোগেই সর্বসম্মতভাবে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হোক। সরকারের পরিকল্পনা ছিল, প্রথমে লোকসভায় প্রস্তাব আনা হবে, তারপর রাজ্যসভায়। কিন্তু সোমবার হঠাৎ করেই ধনখড় ঘোষণা করেন যে, বিরোধী বেঞ্চ থেকে ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর করা অনাস্থা প্রস্তাব তিনি পেয়েছেন। ট্রেজারি বেঞ্চের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিরোধী পক্ষের প্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় সরকার পক্ষ চরম অস্বস্তিতে পড়ে যায়। এছাড়া, পাহেলগাম এবং অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে দীর্ঘক্ষণ বলার সুযোগও দিয়েছিলেন ধনখড়, যা সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। এই সমস্ত ঘটনাই ধনখড়ের আকস্মিক ইস্তফার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়াচ্ছে।