দীপাবলির রাতে নামেন স্বয়ং মহাকালী! কাঁধে চড়ে দেবীর উন্মত্ত তাণ্ডব নাচ, ৫০০ বছরের অলৌকিক রহস্য দেখে থমকে যাবে রক্ত!

পশ্চিমবঙ্গে দীপাবলির রাতে কালীপুজোর ব্যাপক ধুমধাম থাকলেও নদীয়ার শান্তিপুরে দেখা যায় এক অনন্য, রোমাঞ্চকর ও শিহরণ জাগানো প্রথা। দীপাবলির অমাবস্যা তিথিতে দেবীর আরাধনার পর সারা রাত ধরে শান্তিপুরের রাজপথে পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী ‘বামা কালী’ নৃত্য। প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে সুবিশাল কালী প্রতিমাকে কাঁধে তুলে যুবকদের এই উন্মত্ত ও উগ্র তাণ্ডব নাচ কেবল বিনোদন নয়, এটি শান্তিপুরের মানুষের আবেগ, গভীর বিশ্বাস ও ৫০০ বছরের প্রাচীন লোক-সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল।

ইতিহাস অনুযায়ী, প্রায় ৫০০ বছর আগে শান্তিপুরে বামাকালী নৃত্যের উদ্ভব ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে এই পুজো সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে এক নতুন রূপ লাভ করে। ‘বামা’ শব্দের অর্থ হলো ‘বাম’। সাধারণ কালীমূর্তিতে দেবীর ডান পা শিবের বুকে থাকে, কিন্তু এখানে দেবী কালী ভগবান শিবের বুকের ওপর তাঁর বাম পা স্থাপন করে অবস্থান করেন। দেবীর এই রূপ অত্যন্ত উগ্র ও জাগ্রত বলে মনে করা হয়, যা এই নৃত্যের মধ্যেও তীব্রভাবে প্রকাশ পায়। প্রতিমা বিসর্জনের আগে সুবিশাল প্রতিমাটিকে বাঁশের মজবুত মাচায় বসিয়ে কাঁধে তুলে নেন একদল যুবক। ঢাক ও কাঁসরের উত্তাল তালে তালে আলোঁড়িত হয়ে তারা যখন এগোতে থাকেন, তখন মনে হয় স্বয়ং দেবীই মর্ত্যে নেমে তাণ্ডব নৃত্য করছেন।

বিসর্জনের এই বিশেষ শোভাযাত্রাটি আয়োজিত হয় গভীর রাতে, যেখানে কৃত্রিম বৈদ্যুতিক আলোর বদলে ব্যবহার করা হয় জ্বলন্ত মশাল। মশালের আলো-ছায়ায় দেবীর এমন গম্ভীর ও রূপ দেখে সমবেত হাজার হাজার ভক্তের শরীরে শিহরণ জেগে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ‘বামা কালী’ নৃত্যের ভিডিও মারাত্মক ভাইরাল হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে এক চরম কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। শান্তিপুরের হাজার হাজার মানুষ সারা রাত জেগে ঐতিহ্য ও ভক্তির মেলবন্ধনে তৈরি এই অলৌকিক লোক-সংস্কৃতিতে শামিল হন।