হঠাৎ ট্রেনের চালকের কেবিনে উঠলেন পূর্ব রেলের জিএম! রক্তচাপ বাড়ল আলিপুর থেকে বি.বি.ডি. বাগের রেলকর্তাদের!

নিরাপদ, দক্ষ এবং সম্পূর্ণ যাত্রীবান্ধব ট্রেন পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করলেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার (GM) গীতিকা পাণ্ডে। সাধারণ ট্রেনের চালকের কেবিনে উঠে প্রিন্সেপ ঘাট থেকে বি.বি.ডি. বাগ স্টেশন এবং সেখান থেকে পুনরায় প্রিন্সেপ ঘাট পর্যন্ত একটি আকস্মিক ‘ফুটপ্লেট পরিদর্শন’ (Footplate Inspection) চালান তিনি। রেলের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধানের এই আচমকা পরিদর্শনের ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয় পূর্ব রেলের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও রেল কর্মীদের মধ্যে।
ফুটপ্লেট পরিদর্শনের প্রধান লক্ষ্যই হলো ট্রেনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা, ট্র্যাকের সুরক্ষাবলয় এবং পরিচালন দক্ষতার খুঁটিনাটি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা। এই ভিআইপি পরিদর্শনের মাধ্যমে জেনারেল ম্যানেজার সরাসরি ইঞ্জিন থেকে শুরু করে গোটা রেল চলাচল ব্যবস্থা পর্যালোচনা করার বিরল সুযোগ পান। এতে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা এবং ট্র্যাকের সার্বিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা অনেক সহজ ও বাস্তবসম্মত হয়।
শুধুমাত্র চালকের কেবিনের মধ্যেই নিজের পরিদর্শন সীমাবদ্ধ রাখেননি গীতিকা পাণ্ডে। যাত্রাপথে তিনি সাধারণ ট্রেনের প্রতিটি কোচে কোচে ঘুরে ব্যাপক নজরদারি চালান। বিশেষ করে ট্রেনের ভেতরের পাখা, আলো, আসন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সুরক্ষা উপকরণের বর্তমান অবস্থা নিজে হাতে পরীক্ষা করেন। ট্রেনের কামরায় সফররত সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি এবং ট্রেন পরিষেবার বর্তমান গুণমান ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তাঁদের মতামত শোনেন। যাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধা ও অভাব-অভিযোগ সরাসরি বোঝার ক্ষেত্রে এই ধরনের মুখোমুখি আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রেল বিভাগ।
এই উচ্চপর্যায়ের সফর প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শিবরাম মাঝি জানান, ‘‘জেনারেল ম্যানেজারের এই আকস্মিক পরিদর্শন কেবল একটি রুটিন মাফিক কাজ নয়; এটি যাত্রী সন্তুষ্টি ও ধারাবাহিক পরিষেবা বৃদ্ধির প্রতি পূর্ব রেলের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক। যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় এবং ভেতরের পরিকাঠামো সরেজমিনে খতিয়ে দেখার ফলে যাত্রী সাধারণের প্রকৃত চাহিদা বুঝতে সুবিধা হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দ্রুত সংস্কার ও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।’’