দিল্লি-মুম্বইয়ের পর এবার পাশের রাজ্যেই হু হু করে ছড়াচ্ছে সোয়াইন ফ্লু! বেশিরভাগ হাসপাতালেই আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলার নির্দেশ

দিল্লি, মহারাষ্ট্রের পর এবার প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডেও হু হু করে থাবা বসাচ্ছে H1N1 বা সোয়াইন ফ্লু। রাজধানী রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (RIMS)-এ পরীক্ষা করা নমুনার মধ্যে বড় অংশের পজিটিভ ধরা পড়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য দফতর। করোনা আতঙ্ক পুরোপুরি কাটতে না কাটতেই নতুন এই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চিকিৎসকরা সামান্য জ্বর বা সর্দিকেও হালকাভাবে নিতে কঠোরভাবে বারণ করেছেন।
ঝাড়খণ্ড স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রিমসে ১১টি রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৮টিতেই H1N1 ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। যদিও রাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধিকর্তা শশী প্রকাশ ঝা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা হিসেবে কঠোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার রোধ করতে রাজ্যের সমস্ত জেলার সিভিল সার্জন এবং মেডিক্যাল কলেজগুলিকে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে অন্তত ১০ বেডের আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পিপিই কিট, থ্রি-লেয়ার মাস্ক, জরুরি ওষুধ, অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটর মজুত রাখতে বলা হয়েছে। ওপিডিতে সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগীদের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং চালুর পাশাপাশি বেসরকারি ল্যাবগুলিতে সন্দেহভাজন রোগীর সন্ধান মিললে অবিলম্বে প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, H1N1-এর উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতোই—হঠাৎ জ্বর, কাঁপুনি, শুকনো কাশি, গলা ব্যথা ও প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা। তবে বয়স্ক ব্যক্তি, ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং যাঁদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস বা হাঁপানির মতো কো-মরবিডিটি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস মারাত্মক রূপ নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভিড় এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।