দিল্লি চলো ডাক! যন্তর মন্তরে জমায়েত রুখতে রাজধানী জুড়ে জরুরি অবস্থা, বাতিল ২৮টি ট্রেন

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজধানী দিল্লি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে সিজেপি। পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে অনুমতি না দেওয়া হলেও রাজধানীতে জনস্রোত আছড়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং রাজধানীতে অনধিকার প্রবেশ রুখতে মেগা মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে গাজিয়াবাদ, নয়ডা ও দিল্লি সীমান্তে কঠোর পাহারা বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিহার, উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থান থেকে আসা দুডজনেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১০ অক্টোবর ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত নতুন দিল্লি এবং হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা সমস্ত ট্রেন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে লক্ষাধিক যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। শুধু তাই নয়, রাজধানীর অভ্যন্তরে নিরাপত্তা আঁটসাঁট করতে শুক্রবার রাত ৯টা থেকেই জনবহুল ও সংবেদনশীল এলাকার মোট ৫৭টি মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এই স্টেশনগুলির এন্ট্রি ও এক্সিট গেট বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। মেট্রো নেটওয়ার্কের পাশাপাশি রাজপথ ও জনবহুল চত্বরগুলিতেও কড়া নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনীর বিশাল যৌথ বাহিনী নামানো হয়েছে। রাজধানীতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতিমধ্যে ২৩ হাজার সিএপিএফ (CAPF) জওয়ান এবং ২০ হাজার দিল্লি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত গোটা দিল্লি জুড়ে মোট ২২১ কোম্পানি নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে। বিশেষ করে যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেডিং, ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (FRS) ক্যামেরা এবং ক্লোজড সার্কিট টিভি (CCTV) ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং সন্দেহভাজনদের ট্র্যাক করতে কন্ট্রোল রুম থেকে গোটা শহরের ওপর কড়া নজর রাখা হয়েছে।
তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে প্রশাসনিক স্তরে আরও বেশ কিছু কঠোর পূর্বসতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে দিল্লির সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত খুচরা মদের দোকান (যেমন L6, L6FG, L8, L10, L14 এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্যাটাগরি) আগামী ৯ ও ১০ অক্টোবর টানা দুদিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে আবগারি বিভাগ। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দিল্লি অভিমুখে আন্দোলনকারীদের আগমন ঠেকাতে রাজ্যগুলির গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন ও বাস টার্মিনাসগুলিতে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রদেশের ইতারসি স্টেশনে গোয়া এক্সপ্রেস থেকে বেশ কিছু ছাত্র বিক্ষোভকারীকে স্থানীয় পুলিশের তরফ থেকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে, সিজেপির এই মহা-বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আগামীকালের দিল্লি কার্যত এক দুর্গতে পরিণত হয়েছে।