দিল্লিতে মেগা শো! পুতিন-জিনপিংয়ের উপস্থিতিতে কোন ঐতিহাসিক বৈঠকে কাঁপতে চলেছে বিশ্ব রাজনীতি?

বিশ্বজুড়ে চলা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ভারতের রাজধানী দিল্লি। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ‘ভারত মণ্ডপম’-এ এই বিশ্বমঞ্চের সূচনা হতে চলেছে, যেখানে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলির শীর্ষনেতারা। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্মেলনের মূল এজেন্ডা ও বৈশ্বিক গুরুত্ব: ব্রিকস জোটের অন্তর্ভুক্ত ১১টি দেশে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ বসবাস করেন এবং এরা বিশ্ব জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। বর্তমান বিশ্বমঞ্চে ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং অর্থনৈতিক সংকটের জেরে মার্কিন ডলারের আধিপত্য কমানো বা ‘ডি-ডলারাইজেশন’, বিকল্প সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা এবং গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এই সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। পাশাপাশি, ‘ব্রিকস গ্রেইন এক্সচেঞ্জ’ এবং যৌথ ডিজিটাল ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের মতো উদ্যোগগুলিকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শীর্ষনেতাদের উপস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স সহ অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর এই বৈঠক দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রস্তুতি: অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিকে একপ্রকার দুর্ভেদ্য নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার নিরাপত্তা কর্মী, উন্নত সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আধা-সেনা বাহিনী মোতায়েন করার পাশাপাশি ট্রাফিক চলাচলের ক্ষেত্রেও ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশন জারি করা হয়েছে। সবমিলিয়ে, বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে এই ব্রিকস সম্মেলন যে এক ঐতিহাসিক মোড় হতে চলেছে, সে বিষয়ে দ্বিমত নেই কোনো মহলেই।