নিয়োগ দুর্নীতিতে এবার খোদ বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে কড়া সমন! দিল্লিতে তলব করল জাতীয় তফশিলি কমিশন

নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ফের বিপাকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। সমস্ত বিতর্ক ও অভিযোগের জেরে এবার বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে সশরীরে দিল্লিতে তলব করল জাতীয় তফশিলি জাতি কমিশন। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষকে যাবতীয় নথিপত্র সহ দিল্লি হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২০ অগস্ট উপাচার্যকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে তিনি অনুপস্থিত থাকায় কমিশন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং সমন জারি করার হুঁশিয়ারি দেয়। সেই অনুযায়ী, কমিশনের সহকারী অধিকর্তা দীনেশ ব্যাসের নির্দেশিকা মেনে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় শুনানিতে উপাচার্যকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতীগ ঘোষ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনো চিঠি না পেলেও কমিশনের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করা হবে।
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে? জানা গিয়েছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় নতুন দিল্লির খান মার্কেটে জাতীয় তফশিলি জাতি কমিশনের কোর্টরুমে কমিশনের সদস্য পার্থ বিশ্বাসের এজলাসে এই মামলার শুনানি হবে। উপাচার্যকে এই সংক্রান্ত সমস্ত ফাইল, রেকর্ড ও নথি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, সহকারী কর্মসচিব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিযোগকারী লিটন বিশ্বাসের করা অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তারও সম্পূর্ণ প্রতিলিপি সঙ্গে রাখতে হবে। শুনানির দিন অভিযোগকারী লিটন বিশ্বাসকেও উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিতে পারে কমিশন।
উল্লেখ্য, গত বছর আগস্ট মাসে বিশ্বভারতীতে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, সহকারী কর্মসচিব, সম্পত্তি আধিকারিক ও গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে সহকারী কর্মসচিব পদটি ‘তফসিলি জাতি’ (SC) প্রার্থীর জন্য সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু চলতি বছরের জুনে ওই পদে সুখেন্দু মজুমদারকে নিয়োগ করা হলে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে।
মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা তথা এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিটন বিশ্বাস এই পদে আবেদন করেছিলেন। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম অস্বচ্ছতা রাখা হয়েছে এবং সংরক্ষণের সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে বিশেষ এক প্রার্থীকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বা চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রকাশ না করায় তিনি জাতীয় তফশিলি জাতি কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানান।
প্রাথমিকভাবে কমিশন গত ৩০ জুন উচ্চশিক্ষা সচিবের কাছে ব্যাখ্যা চায় এবং পরবর্তীতে উপাচার্যকে তলব করে। কিন্তু প্রথমবার হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ায় কমিশনের ক্ষোভ আরও বাড়ে। ফলে দ্বিতীয় দফার এই কড়া তলবে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।