দলবদলের পরই বড় পুরস্কার! নিরাপত্তা ফিরে পাচ্ছেন সুদীপ-দেব, নবান্নের সিদ্ধান্তে জল্পনা তুঙ্গে

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই বড়সড় চমক। দলত্যাগ করে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়া দুই হাইপ্রোফাইল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দেব (দীপক অধিকারী)-কে এবার বিশেষ নিরাপত্তা দিতে চলেছে নবান্ন। সূত্রের খবর, দুজনকে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তবে বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানের পরই ফের তাঁর এবং দেবের সুরক্ষা কবজ ফিরিয়ে দেওয়া হলো।

তৃণমূলের অন্দরের এই বিশাল ভাঙনের খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। ২০ জন তৃণমূল লোকসভা সাংসদ এনসিপিআই-এর সঙ্গে মিশে গিয়ে এনডিএ শিবিরে শামিল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই দলবদলের সত্যতা স্বীকার করেছেন। জানা গেছে, দলত্যাগ বিরোধী আইন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এড়াতে এবং জাতীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে জোড়াফুল প্রতীকে জিতে আসা এই ২০ জন সাংসদ এখন ত্রিপুরা ভিত্তিক এই ছোট দলটির হাত ধরে এনডিএ-র সঙ্গে জোট বাঁধছেন।

এই দলবদলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলবদলের পর কুণাল ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে নাম না করে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘মমতা, আমার গাড়িটার বয়স হয়ে গিয়েছে। ওটার বদলে নতুন গাড়ি কিনতে চাই। পার্টি কি আমাকে কিছু টাকা দিতে পারে?’’ কুণালের দাবি, নির্বাচনী হলফনামায় কোটিপতি হওয়া সত্ত্বেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি দলের কাছে এই অদ্ভুত আবদার করেছিলেন। কুণাল আরও লিখেছেন, ‘‘কিছুদিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ করেছিলেন বিচিত্র পরচুলো। অপূর্ব দাবি, আবদার, নির্লজ্জের মতো। অথচ নিজে কোটিপতি, তবুও গাড়ির টাকা চাই পার্টির থেকে।’’

কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, সাংসদদের এই দলবদল কেবল আদর্শগত লড়াই নয়, বরং এর পেছনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বন্দ্ব কাজ করেছে। যে নেতার নিরাপত্তা গত কয়েক বছর ধরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, হঠাৎ করেই এনসিপিআই-তে যোগদানের পরপরই কেন আবার সেই নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। তবে নবান্ন সূত্রের খবর, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করেই এই সুরক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে।

এখন এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের পরবর্তী রণকৌশল কী হয় এবং রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস নিজের ঘর কতটা গুছিয়ে নিতে পারে, সেটাই বড় দেখার বিষয়। লোকসভায় এনডিএ-র শক্তি বৃদ্ধি এবং তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যার এই ব্যাপক পতন আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।