‘থোড়াই কেয়ার’! প্রশাসন ও বিজ্ঞানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আগুন, ফসলের উর্বরতা হারাচ্ছে চাষের জমি

কৃষি ক্ষেত্রে এক নতুন ‘বিধ্বংসী ট্রেন্ড’ ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বাংলায়। পুরোনো দিনের মতো ধান হাতে কাটার বা খড় বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা এড়াতে বহু কৃষক এখন ফসল তোলার পরই জমিতে পড়ে থাকা নাড়ায় আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন। এক দশক আগে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো রাজ্যে নাড়া পোড়ানোর যে চল ছিল, এখন কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ সত্ত্বেও সেই অসচেতনতার ছবি দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে।

এই অ-বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপের ফলে শুধু পরিবেশ দূষণ হচ্ছে তা নয়, অন্যান্য চাষিরাও এর খেসারত দিচ্ছেন। সম্প্রতি দাঁতন, নারায়ণগড়, চন্দ্রকোনা বা দাসপুর এলাকায় নাড়া পোড়ানোকে ঘিরে বেশ কয়েক বিঘা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কতিপয় চাষিদের এই কাণ্ডে পুড়ে ছাই হচ্ছে সোনালী ফসল, এবং সবথেকে বড় ক্ষতি হচ্ছে চাষের জমির উর্বরতা।

সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার দুজিপুর এলাকায় এক কৃষকের নাড়া পোড়ানোর আগুন অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ে কয়েকশো বিঘা জমিতে। মাঠে শুকোতে দেওয়া ধানও এই আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়, যা অন্যান্য কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়েছে।

পরিবেশপ্রেমীরা এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা বারবার জানাচ্ছেন, নাড়া পোড়ানোর কারণে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে কমে যায়, বাতাস দূষিত হয় এবং অন্যান্য কৃষকদেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়। রাজ্যের একের পর এক ব্লকে এই নাড়া পোড়ানো ‘ট্রেন্ড’ বাড়লেও, বারংবার সচেতনতা শিবির আয়োজন করা সত্ত্বেও কিছু কৃষক এর পরোয়া করছেন না। বিধ্বংসী এই ট্রেন্ডের শেষ কোথায়, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্যের কৃষি ও পরিবেশ মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy