ত্বকে আসবে চকচকে ভাব আর কমবে হার্টের ঝুঁকি! ডায়েটিশিয়ানের বলা এই একটি পুষ্টি উপাদান কি আপনিও খাচ্ছেন?

বর্তমান দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে আমরা সাধারণত ক্যালসিয়াম, আয়রন কিংবা ভিটামিন ডি-এর ওপরেই বেশি জোর দিই। অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান ওমেগা-৩-এর কথা প্রায় সব সময়ই আমাদের নজর এড়িয়ে যায়।

ডায়েটিশিয়ান জয়শ্রী বণিক জানান, ওমেগা-৩ একটি অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড, যা নীরবে আমাদের হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও ত্বকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দৈনন্দিন রুটিনে এই পুষ্টি উপাদানটি রাখা শরীরের ঘাটতি পূরণের অন্যতম সেরা মাধ্যম।

নিয়মিত ওমেগা-৩ গ্রহণের ফলে শরীর যে অসাধারণ উপকারিতাগুলো লাভ করে, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:

  • হৃদপিণ্ডের সুরক্ষা: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ধমনীর প্রদাহ কমাতেও এটি অত্যন্ত কার্যকরী।

  • স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের বিকাশ: ওমেগা-৩ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। ছোটদের মস্তিষ্কের বিকাশ থেকে শুরু করে বয়সকালে স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে এটি দারুণ ভূমিকা রাখে।

  • গাঁটের ব্যথা নিরাময়: এই উপাদানের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে প্রদাহ-প্রতিরোধী গুণাবলী। আর্থ্রাইটিস বা গাঁটের ব্যথায় যাঁরা ভোগেন, তাঁদের জন্য এটি ভীষণ উপকারী।

  • উজ্জ্বল ও তারুণ্যভপ্ত ত্বক: ত্বক শুষ্ক বা নিষ্প্রাণ হয়ে গেলে ওমেগা-৩ ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি ব্রণজনিত প্রদাহ কমায় এবং ত্বকে সূক্ষ্ম রেখা পড়তে বাধা দেয়।

  • চোখ ও মানসিক স্বাস্থ্য: চোখের রেটিনার সুস্থতা বজায় রাখার পাশাপাশি এটি মেজাজ স্থিতিশীল রাখতে এবং উদ্বেগ বা বিষণ্নতার লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে।

সঠিক মাত্রা ও সতর্কতা প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরের চাহিদা আলাদা। সাধারণত প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিগ্রাম ইপিএ (EPA) এবং ডিএইচএ (DHA) গ্রহণকে যথেষ্ট মনে করা হয়। তবে বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সঠিক মাত্রা নির্ধারণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত মাত্রায় এটি সেবন করলে পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা বা রক্তপাতের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।