আরজি করের চাঞ্চল্যকর তদন্তে মেগা মোড়! শেষ করতে সিবিআইকে মাত্র ৩ সপ্তাহের কড়া ডেডলাইন হাইকোর্টের

আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পড়ুয়া-চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্ত শেষ করতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। এদিন মামলার গোটা শুনানিই হয় রুদ্ধদ্বার কক্ষে (ইন ক্যামেরা), যেখানে মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবী এবং মামলাকারী পক্ষ ছাড়া অন্য কারও প্রবেশাধিকার ছিল না।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন সিবিআইয়ের তরফে মামলার তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, নির্যাতিতার পরিবার যাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ১৬ জনকে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের তালিকায় রয়েছেন চারজন ডাক্তার এবং ঘটনার দিন রাতে খাবার সরবরাহকারী এক ডেলিভারি বয়।
সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে বেঞ্চের কাছে তদন্ত শেষ করার জন্য আরও চার সপ্তাহ সময় চাওয়া হলেও, ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত শেষ করতে হবে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই মামলার বিপুল তথ্যপ্রমাণ ও নথির ভারে বিচারপতির দলও ওয়াকিবহাল, এবং সিবিআইয়ের এই তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে এবার একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় আদালত।
গত ২৫ জুন আরজি করের ঘটনায় নতুন করে সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতের ডিনারের সময় থেকে পরদিন শ্মশানে নির্যাতিতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত যা যা ঘটেছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে। এর আগে গত ২১ জুলাই সিবিআই জয়েন্ট ডিরেক্টরের (ইস্টার্ন জোন) নেতৃত্বে তিন সদস্যের সিট (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। পাশাপাশি, পরিবারের তরফে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের যে সমস্ত অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়।
তদন্তে গতি আনতে গত ৩১ জুলাই মামলার প্রথম থেকে দায়িত্বে থাকা সিবিআই আধিকারিক সীমা পহুজাকে সরিয়ে নতুন তদন্তকারী অফিসার হিসেবে সন্দীপনী গর্গকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট সকালে আরজি কর হাসপাতালের চার তলার সেমিনার রুম থেকে ওই তরুণী চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পর তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলে পরিবার। সেই দ্রুত সৎকারের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এর আগে খড়দা থানা এলাকার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে এবং গ্রেফতারি চালায়। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনিয়েছে শিয়ালদা আদালত। এখন দেখার, হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া এই তিন সপ্তাহের মধ্যে সিবিআই তাদের চূড়ান্ত তদন্তে কোন নতুন তথ্য সামনে আনে।