তেলের জোগান স্বাভাবিক, ইলিশের খোঁজে উত্তাল সমুদ্র! বড় সুখবর পেলেন রাজ্যের হাজার হাজার মৎস্যজীবী

জামাইষষ্ঠীর আনন্দ আর পাতে ইলিশ—বাঙালির এই চিরাচরিত উদ্যাপনের আবহে যখন মৎস্যজীবীরা ইলিশের খোঁজে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ডিজেল সংকটের কালো মেঘ তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল। মাছ ধরার ট্রলারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের জোগান না মেলায় কার্যত অথৈ জলে পড়েছিলেন মৎস্যজীবী সংগঠনের সদস্যরা। তবে শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং মৎস্যজীবীদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
দেশজুড়ে তেলের আমদানিতে কিছুটা ঘাটতির জেরে গত কয়েকদিন ধরেই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি বিক্রির ওপর জারি করা হয়েছিল কঠোর বিধিনিষেধ। সাধারণ যানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০০ থেকে ২০০০ টাকার ডিজেল বা ২০০ থেকে ৫০০ টাকার পেট্রোল দেওয়ার ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সমুদ্রগামী ট্রলারগুলোর প্রয়োজন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। গভীর সমুদ্রে ইলিশের সন্ধানে যেতে গেলে প্রতিটি ট্রলারের জন্য অন্তত ৫ থেকে ৭ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। সেখানে পাম্প থেকে মাত্র ২ হাজার লিটার তেল পাওয়ায় ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মৎস্যজীবী সংগঠনগুলো দ্রুত মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়। তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে রাজ্য প্রশাসন ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর সরাসরি বিভিন্ন তেল কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে। ট্রলারগুলোর জন্য ডিজেল পেতে যাতে কোনো বাধা না থাকে, তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয় তেল সংস্থাগুলোকে। দিঘা ও সংলগ্ন এলাকার ট্রলার সংগঠন এবং দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের আবেদনের ভিত্তিতেই ডিজেল বিক্রির ওপর থেকে ওই ঊর্ধ্বসীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজ্য সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানিয়েছেন মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতৃত্ব। দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের সম্পাদক দেবাশিস শ্যামল বলেন, “অনেক পাম্পেই নির্দিষ্ট লিমিটের বেশি তেল মিলছিল না, যা আমাদের কাজের পরিপন্থী ছিল। এখন রাজ্যের হস্তক্ষেপে সেই সমস্যা মিটেছে। মৎস্যজীবীদের স্বার্থে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত ইতিবাচক।”
উল্লেখ্য, প্রতি বছর মাছ ধরার মরশুমে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি ট্রলার, লঞ্চ ও যন্ত্রচালিত নৌকো ইলিশের খোঁজে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেয়। ১৪ জুন পর্যন্ত সমুদ্রযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা (ব্যান পিরিয়ড) ছিল। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই গভীর রাত থেকে সমুদ্রে পাড়ি দিতে শুরু করেছেন মৎস্যজীবীরা। তেলের সংকট কাটায় এখন তাঁদের লক্ষ্য শুধুই ইলিশ। চলতি মরশুমে রূপোলি শস্যের বাম্পার ফলন পাওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী মৎস্যজীবীরা। তেলের জোগান স্বাভাবিক হওয়ায় এখন গভীর সমুদ্রে ইলিশের খোঁজে ট্রলারের সারি দেখার অপেক্ষায় উপকূলবর্তী এলাকা।