তিন বছর খেটেও বিহারে ‘খাতা শূন্য’! প্রায়শ্চিত্ত করতে গান্ধী আশ্রমে কেন নিজেকে নীরব করলেন পিকে?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে খাতা খুলতে না পারার চরম বিপর্যয়ের পর জন সুরজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) এক নাটকীয় পদক্ষেপ নিলেন। দীর্ঘ তিন বছর ধরে মাটি কামড়ে প্রস্তুতি নেওয়ার পরেও দল একটিও আসনে জিততে না পারায় তিনি বৃহস্পতিবার বিহারের ভিতিহারওয়া গান্ধী আশ্রমে মৌনব্রত পালন করেন।

গত তিন বছর ধরে বিহার জুড়ে পদযাত্রা করে এবং ব্যাপক প্রচার চালিয়ে প্রশান্ত কিশোর জন সুরজ পার্টিকে একটি বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনী ফলাফলে একটিও আসন না পাওয়ায় তিনি এই ব্যর্থতাকে মানুষের কাছে নিজেদের বক্তব্য বোঝাতে না পারার ফল বলেই স্বীকার করেছেন। এই ব্যর্থতার প্রায়শ্চিত্ত করার জন্যই তিনি মৌনব্রত পালনের সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনাটি কাকতালীয়ভাবে এমন দিনে ঘটল, যেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে নীতীশ কুমার দশম বারের জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন। প্রশান্ত কিশোর আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, ২০ নভেম্বর তিনি একটি আশ্রমে নীরবে সময় কাটাবেন এবং ভবিষ্যতে দ্বিগুণ উদ্যমে নিজের লক্ষ্যে ঝাঁপানোর শপথ নেবেন।

সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছিলেন, “আমি দ্বিগুণ পরিশ্রম করব। বিহারের উন্নতি করার যে শপথ আমি নিয়েছি, তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমি থামব না।”

নির্বাচনী বিপর্যয় নিয়ে তিনি বলেন, “কীসের ভিত্তিতে ভোট দিতে হবে, বিহারের মানুষকে আমি তা বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা হয়তো অনেক ভুল করেছি, কিন্তু আমরা কোনও অপরাধ করিনি।”

উল্লেখ্য, এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো লড়ে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরজ পার্টি একটিও আসন জিততে পারেনি। অন্যদিকে, ৮৯টি আসন পেয়ে বিজেপি একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে এবং জেডিইউ পেয়েছে ৮৫টি আসন।