ড্রাগনের নিশানায় অরুণাচল! পেন্টাগনের রিপোর্টে ফাঁস চিনের ‘মূল স্বার্থ’, ফের কি ঘনিয়ে আসছে যুদ্ধ?

অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে চিনের আগ্রাসী মনোভাব এবং ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পেন্টাগনের দাবি, চিন এখন তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চিন সাগরের পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের ওপর তাদের দাবিকেও নিজেদের ‘মূল স্বার্থ’ (Core Interest) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। আমেরিকার এই বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই বেজিং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।

মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া ‘চিনের সামরিক ও নিরাপত্তা উন্নয়ন ২০২৫’ শীর্ষক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর সম্প্রতি চিনের পক্ষ থেকে উত্তেজনা কমানোর যে তৎপরতা দেখা গিয়েছে, তা আসলে বেজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী দ্বৈত কৌশলের অংশ। পেন্টাগনের মতে, চিন একদিকে সীমান্তে কৌশলগতভাবে শান্ত পরিস্থিতি বজায় রেখে ভারতকে আমেরিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে বন্ধু দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ভারতের ওপর সামরিক চাপ বজায় রাখার পরিকল্পনা করছে। এমনকি পাকিস্তানের মাটিতে চিন একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টিকেও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

এই রিপোর্টের তীব্র নিন্দা করে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাং শিয়াওগাং এটিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ এবং ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে সমালোচনা করেছেন। চিনের দাবি, পেন্টাগন মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইছে। লিন জিয়ান বলেন, “সীমান্ত প্রশ্নটি ভারত ও চিনের নিজস্ব বিষয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং দুই দেশ নিজেদের মধ্যে মসৃণ যোগাযোগ বজায় রাখছে। আমেরিকা নিজের সামরিক আধিপত্য বজায় রাখার অজুহাত খুঁজতে এই ধরনের কাল্পনিক রিপোর্ট তৈরি করছে।”

পেন্টাগনের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, ২০২৪-এর ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক এবং সেনা প্রত্যাহার চুক্তিকে চিন কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে। চিন চায় না ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও মজবুত হোক। তবে পাকিস্তান-চিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে সরাসরি উত্তর এড়িয়ে ঝাং শিয়াওগাং জানিয়েছেন, আমেরিকা চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা এবং ‘চিনা সামরিক হুমকি’ অতিরঞ্জিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করা বন্ধ করুক। সব মিলিয়ে, পেন্টাগনের এই রিপোর্ট এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।