ড্রাগনের ঘুম কাড়তে আসছে ভারতের ‘সুদর্শন চক্র’! এক ক্লিকেই আকাশ থেকে ধ্বংস হবে শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র!

ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। দেশের আকাশসীমাকে নিশ্ছিদ্র করতে এবং শত্রুপক্ষের যে কোনো মিসাইল বা ড্রোন হামলা রুখে দিতে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) নিয়ে আসছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘সুদর্শন চক্র’ প্রকল্প। ডিআরডিও-এর চেয়ারম্যান তথা সচিব ড. সমীর ভি কামাত জানিয়েছেন, এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ (Feasibility Report) সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিবেদনটি অনুমোদনের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে।

২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক ভাষণে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথম এই ‘মিশন সুদর্শন চক্র’-এর ঘোষণা করেছিলেন। এটি মূলত একটি বহুস্তরীয় এবং সম্পূর্ণ এআই (AI) চালিত জাতীয় আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ছাতা। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ঘাতক ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল তো বটেই, এমনকি অত্যন্ত দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক এবং হাইপারসনিক মিসাইলকেও মাঝ আকাশেই চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে সক্ষম।

প্রকল্পের সময়সীমা নিয়ে ড. কামাত জানিয়েছেন, এটি একটি বিশালাকার প্রোগ্রাম যা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগবে। তবে দেশবাসীকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “পুরো কাজটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। পর্যায়ক্রমে (Phase-wise) এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হবে।” আশা করা হচ্ছে, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। প্রথম ধাপে দিল্লি-এনসিআর-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, পরমাণু ঘাঁটি, নৌবন্দর, এয়ারবেস এবং দেশের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোকে এই অভেদ্য সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আনা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সুদর্শন চক্র’ কেবল একটি ডিফেন্স সিস্টেম নয়, এটি ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক আধুনিক হাতিয়ার। এতে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক রাডার নেটওয়ার্ক, লেজার অস্ত্র এবং অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় থাকবে। চীনের স্টেলথ প্রযুক্তি কিংবা পাকিস্তানের প্ররোচনার বিরুদ্ধে এটি ভারতের তুরুপের তাস হতে চলেছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের অধীনে ডিআরডিও দেশীয় স্টার্টআপ এবং শিল্পমহলের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে এই চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্ট সফল করতে বদ্ধপরিকর।