বীরভূম তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য উপরমহল থেকে বারবার কড়া বার্তা এলেও, ভোটের আগে পুরনো ছবিটাই ফের স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এই মুহূর্তে ‘ট্রেলার চলছে, সিনেমা পুরো বাকি’— এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বীরভূমের জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। তিনি সম্প্রতি সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ অঞ্চল সভাপতি বলরাম বাগদিকে নিজের দিকে টেনে এই মন্তব্য করেছেন।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কিছুদিন আগে। সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকে অঞ্চল সভাপতি বলরাম বাগদি, তাঁর ভাই-সহ অন্য এক তৃণমূল কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল কাজল শেখের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এই পুরো ঘটনাটি ঘটেছিল সাংসদ শতাব্দী রায়ের সামনে। জল গড়ায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, ঝামেলা যেন আলোচনার টেবিলেই মিটে যায়। অন্যথায়, তাঁকে বাইরে থেকে লোক পাঠিয়ে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া নির্দেশই যেন অব্যর্থ ওষুধের মতো কাজ করেছে। রাতারাতি অনুব্রত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বলরাম বাগদি এখন কাজল ঘনিষ্ঠ। সম্প্রতি বীরভূম জেলা পরিষদে কাজল ঘনিষ্ঠ নুরুল ইসলামের সঙ্গেও দেখা গিয়েছে বলরাম বাগদিকে।
বিষয়টি নিয়ে কাজল শেখ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “আমাদের মধ্যে যা দ্বন্দ্ব ছিল তা অনেকাংশেই মিটে গিয়েছে। কেউ বা কারা ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করাচ্ছিল। আমরা চিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাদের নির্দেশেই এই ব্লক চলবে।” অন্যদিকে, বলরাম বাগদিও একসঙ্গে চলার বার্তা দিয়ে ভুল বোঝাবুঝি মিটে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। বীরভূমের এই দ্রুত পাল্টানো সমীকরণ আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।