টোটো রেজিস্ট্রেশন ফি ₹১০০০, আসানসোলে শোরুমগুলি চাইছে ₹১৮০০০! RTO-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ TMC নেতার

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে টোটো চলাচলে রাশ টানতে টোটো রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করেছেন। নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সমস্ত টোটোকে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে এবং নির্দিষ্ট রুটেই চলাচল করতে হবে। কিন্তু, সরকারের বেঁধে দেওয়া ১০০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি-এর পরিবর্তে আসানসোলের টোটো শোরুমগুলি নাকি ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা দাবি করছে। এমনই গুরুতর অভিযোগে আসানসোলে রাস্তায় নামল তৃণমূলের মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন।

তৃণমূল নেতার গুরুতর অভিযোগ: তৃণমূল মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি রাজু আলুওয়ালিয়া সরাসরি রাজ্য পরিবহণ দফতরের আসানসোল আরটিও (RTO)-র বিরুদ্ধে এই অনিয়মে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, আরটিও’র মদতেই শোরুমগুলি অতিরিক্ত টাকা দাবি করে রাজ্য সরকারকে কালিমালিপ্ত করছে।

রাজু আলুওয়ালিয়া বলেন, “আসানসোলের আরটিও ঠিক কাজ করছেন না। যখন ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করার সময় রয়েছে, তখন তার আগেই কেন টোটোগুলিকে আটক করা হচ্ছে? এছাড়া কোথায় রেজিস্ট্রেশন হবে তার কোনও ঠিক ঠিকানা নেই। আরটিও দফতরে গেলে বলা হচ্ছে শোরুমে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে। শোরুমে গেলে শোরুমওয়ালারা কারও কাছে ১০ হাজার, কারও কাছে ১৫ হাজার, আবার কারও কাছে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করছে। অথচ, সরকার নির্দিষ্ট টাকা বেঁধে দিয়েছে যে, এক হাজার টাকার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। এক্ষেত্রে সরকারকেই কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে।”

বিক্ষোভ ও চালকদের ভোগান্তি: ত্রিশে নভেম্বরের সময়সীমা পার হওয়ার আগেই আসানসোলে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন না করানোর জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় দেড়শ’র বেশি টোটো আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এরই প্রতিবাদে আসানসোল রবীন্দ্রভবনের সামনে কয়েকশো টোটো দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ দেখান টোটো চালকরা। তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ায় তৃণমূলের মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন।

এক টোটো চালক গৌতম দাস তাঁর ভোগান্তির কথা জানিয়ে বলেন, “জেলা শাসকের দফতরে গেলে বলা হচ্ছে যে পৌরনিগম থেকে করা হবে রেজিস্ট্রেশন, পৌরনিগমে গেলে বলা হচ্ছে আরটিও অফিস থেকে হবে রেজিস্ট্রেশন। আবার আরটিও অফিসে গেলে বলা হচ্ছে শোরুম থেকে হবে। আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ছি। এই অবস্থায় আমরা নিজেরাও চাইছি টোটোগুলিকে রেজিস্ট্রেশন করতে। কিন্তু, এইভাবে অরাজকতা চললে কী করে হয়?”