টুবর্গ-কার্লসবার্গ প্রেমীদের জন্য বিরাট খবর! সেবির সবুজ সঙ্কেতে এবার ওয়াল স্ট্রিটে বাজিমাত করতে চলেছে এই সংস্থা

বিখ্যাত ড্যানিশ ব্রুয়ারি এবং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থা কার্লসবার্গের ভারতীয় শাখা এবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে পা রাখার চূড়ান্ত অনুমোদন পেল। দেশের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI) কার্লসবার্গ ইন্ডিয়ার ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (IPO)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে। আপনি যদি টুবর্গ বা কার্লসবার্গ বিয়ার ব্র্যান্ডের নিয়মিত ক্রেতা হন, তবে এই খবর আপনার জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। কারণ জনপ্রিয় এই ব্র্যান্ডগুলির মূল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাটি এবার দেশের স্টক মার্কেটে তাদের প্রথম পাবলিক অফারিং নিয়ে আসছে।

রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এই আইপিও-র মাধ্যমে কোম্পানিটি বাজার থেকে প্রায় ৬,৬০০ কোটি টাকা (প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলার) সংগ্রহের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ বিষয় হলো, এই সম্পূর্ণ আইপিওটি অফার ফর সেল (OFS) পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, কোম্পানির বর্তমান প্রোমোটার বা বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরাই কেবল তাঁদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করবেন এবং বাজারে কোনো নতুন শেয়ার ইস্যু করা হবে না। আর্থিক বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকের মধ্যেই এই সংস্থার স্টক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য, কার্লসবার্গ ইন্ডিয়া গত ১ জুলাই সেবি-র কাছে সম্পূর্ণ গোপনীয়ভাবে তাদের আইপিও ড্রাফট নথি জমা দিয়েছিল। গোপন নথিবদ্ধকরণের এই বিশেষ ব্যবস্থার ফলে তালিকাভুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটি তাদের আর্থিক তথ্য, ব্যবসায়িক কৌশল ও অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা প্রতিদ্বন্দীদের আড়ালে রাখতে পেরেছিল। এই মেগা আইপিও প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে কোম্পানিটি কোটাক মাহিন্দ্রা ক্যাপিটাল, জেপি মরগ্যান চেজ এবং সিটিগ্রুপের ভারতীয় শাখাগুলির সাহায্য নিচ্ছে। যদিও বাজারের পরিস্থিতি সাপেক্ষে আইপিও-র সুনির্দিষ্ট আকার, কাঠামো বা সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

২০০৭ সালে ভারতীয় বাজারে কার্যক্রম শুরু করা কার্লসবার্গ ইন্ডিয়া বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মদ প্রস্তুতকারক সংস্থা, যাদের ভারতীয় বাজারে প্রায় ২২ শতাংশ শক্তপোক্ত অংশীদারিত্ব রয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে কার্লসবার্গ গ্রুপের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৮৪৭ সালে। বর্তমানে সারা দেশে তাদের মোট ১৪টি আধুনিক ব্রুয়ারি সচল রয়েছে, যার মধ্যে ৮টি সরাসরি কোম্পানির নিজস্ব মালিকানাধীন এবং বাকি ৬টি চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন ইউনিটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাদের জনপ্রিয় পোর্টফোলিওতে কার্লসবার্গ, টুবর্গ, হলস্টেন, সোমার্সবি এবং গ্রিমবারগেনের মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারতে ইউনাইটেড ব্রুয়ারিজ লিমিটেড তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, ‘অ্যাবসোলিউট ভদকা’ প্রস্তুতকারক পার্নো রিকার্ডও খুব শীঘ্রই আইপিও আনার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

শুধু কার্লসবার্গই নয়, সেবি একই সঙ্গে আরও তিনটি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে টিএমসি ট্রান্সফর্মার্স (ইন্ডিয়া) লিমিটেড ৫৫০ কোটি টাকার সম্পূর্ণ নতুন শেয়ারভিত্তিক আইপিও আনছে। পাশাপাশি, উজিন ফার্মা লিমিটেড ও মাতঙ্গি রাবার লিমিটেডও তাদের পাবলিক অফারিংয়ের অনুমোদন পেয়েছে।