টাকা মিলবে সরাসরি হাতে! মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভর করতে দুর্দান্ত উদ্যোগ দিল্লির, জেনে নিন খুঁটিনাটি

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অংশের মহিলাদের আত্মনির্ভর করে তুলতে এবং তাঁদের সার্বিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দিল্লি সরকার। এর অংশ হিসেবে নতুন করে চালু করা হয়েছে দিল্লি সরকারের অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষিত ‘লক্ষ্মী যোজনা’। সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে যে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা শনিবার সকালে গীতা কলোনির জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘দিল্লি লক্ষ্মী যোজনা’ পোর্টালটির উদ্বোধন করবেন। এই পোর্টাল চালুর সঙ্গে সঙ্গেই প্রকল্পটির অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াও সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে, যা থেকে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রকল্পের রূপরেখা ও কার্যকারিতা নিয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, দিল্লি সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত যোগ্য আবেদনপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে নেওয়া। সবচেয়ে বড় কথা, আসন্ন রাখিবন্ধন উৎসবের শুভ উপলক্ষেই এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অধীনে ২১ থেকে ৬০ বছর বয়সি রাজ্যের সমস্ত যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে ২৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা লাভ করবেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু নির্দিষ্ট মাপকাঠি বা শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যেমন—যেসকল মহিলার তিনটি বা তার বেশি সন্তান রয়েছে কিংবা যে সমস্ত পরিবারের বার্ষিক বিদ্যুৎ খরচ ২,৪০০ ইউনিটের বেশি, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবেন না।

নতুন এই যোজনাটির সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের বেশ কিছু যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করতে হবে। এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক মহিলাদের বয়স অবশ্যই ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং তাঁদের পরিবারের বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ ২.৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। তবে যে সমস্ত মহিলা ইতিমধ্যেই অন্য কোনো সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প বা কোনো ধরনের সামাজিক পেনশনের নিয়মিত সুবিধা ভোগ করছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। পাশাপাশি, আয়কর প্রদানকারী ব্যক্তি, যেকোনো সরকারি চাকরিজীবী বা সরকারি কর্মচারী পরিবার এবং যাঁদের নিজস্ব চার চাকার মোটর গাড়ি রয়েছে, তাঁরাও এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন। সরকারের উদ্দেশ্য হলো সমাজের ঠিক নিচুতলার এবং প্রকৃতপক্ষেই আর্থিক সংকটে থাকা মহিলাদের হাতেই সরাসরি এই সাহায্যের টাকা পৌঁছে দেওয়া।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তাদের হাতে টাকা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও অভিনব দুটি বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম বিকল্প অনুযায়ী, প্রতি মাসে সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকার একটি রেকারিং ডিপোজিট (RD) বা ফিক্সড ডিপোজিট (FD) জমা করা হবে এবং বাকি ১০০০ টাকা একটি সুরক্ষিত ডিজিটাল ওয়ালেটে জমা হবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় বিকল্পটি বেছে নিলে সুবিধাভোগী চাইলে সরাসরি পুরো ২৫০০ টাকা দিয়েই একটি আরডি বা এফডি তৈরি করতে পারবেন।

মহিলারা তাঁদের ডিজিটাল ওয়ালেটে জমা হওয়া তহবিল দৈনন্দিন জরুরি খরচের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন, তবে অর্থের অপব্যবহার রোধ করতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু নির্দিষ্ট নিয়মকানুন কঠোরভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের ‘নেতিবাচক তালিকা’ (Negative List)-য় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এমন কোনো ক্ষতিকর জিনিস বা সামগ্রী এই ডিজিটাল ওয়ালেটের টাকায় কেনা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে মদ, তামাক, গুটখা, সিগারেট বা অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য। এছাড়াও, এই সরকারি অনুদানের অর্থ কোনোভাবেই অনলাইন জুয়া বা অপ্রয়োজনীয় অনলাইন কেনাকাটায় খরচ করা যাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সুচিন্তিত ব্যবস্থাটি মূলত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তাঁদের উপার্জিত অর্থের সঠিক সদ্ব্যবহার ও অপচয় রোধ করার এক অনন্য কৌশল। এই প্রকল্পের সফল ও দুর্নীতির মুক্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এবং প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।