টাকা ঢালার হিড়িক! এক লাফে ৭৩০ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন দেওয়া এই শেয়ারগুলিতে মেগা বিনিয়োগ বিদেশীদের

শেয়ারবাজারে ফের একবার ঘুরে দাঁড়ানোর জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে। টানা দুই ত্রৈমাসিক ধরে ভারতীয় বাজার থেকে পুঁজি তুলে নেওয়ার পর, বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বা এফআইআই অত্যন্ত সতর্ক ও সুচিন্তিতভাবে আবার দেশের বাজারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ শুরু করেছেন। এই নতুন ক্রয় প্রবণতা কেবল বাজারের প্রতি তাদের পুনরুজ্জীবিত আস্থারই প্রমাণ নয়, বরং কোন সুনির্দিষ্ট মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপ স্টকগুলিতে বড় তহবিল প্রবেশ করছে, তা নিয়েও বিনিয়োগ মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে। এস ইকুইটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে ১১,০৪৫ কোটি টাকা এবং আগস্ট মাসে ১৩,১২৩ কোটি টাকার বিপুল বিদেশী বিনিয়োগ ভারতীয় বাজারে নতুন গতির সঞ্চার করেছে।
চলতি বছরের প্রথম দিকে বিশ্ববাজারের চলমান অনিশ্চয়তা, মার্কিন সুদের হারের ওঠানামার আশঙ্কা এবং ভারতীয় বাজারের উচ্চ মূল্যায়নের কারণে বিদেশি ফান্ডগুলি ডিসেম্বর ২০২৫ ও মার্চ ২০২৬ ত্রৈমাসিকে ব্যাপক মুনাফা তুলে নিয়েছিল। তবে জুন ২০২৬ ত্রৈমাসিক থেকে সম্পূর্ণ বদলে গেছে সেই পরিস্থিতি। বর্তমান প্রবণতা বলছে, এফআইআইগুলি আর গোটা বাজারজুড়ে অন্ধভাবে টাকা ঢালছে না; বরং তারা বেছে বেছে কেবল সেই সমস্ত কোম্পানিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে, যেগুলির বিগত এক বছরে শক্তিশালী আর্থিক বৃদ্ধি, ভালো তারল্য এবং চোখ ধাঁধানো লাভের রেকর্ড রয়েছে।
এই নতুন বিনিয়োগ জোয়ারের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে কিউপিড নামক সংস্থাটি। গত এক বছরে এই একটিমাত্র স্টক অবিশ্বাস্য ৭৩০ শতাংশ রিটার্ন দিয়ে বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। মার্চের ১.০১ শতাংশ থেকে লাফিয়ে জুন ত্রৈমাসিকে এই কোম্পানিতে এফআইআই-এর অংশীদারিত্ব পৌঁছেছে ৪.১৭ শতাংশে। একই চিত্র দেখা গেছে স্যানসেরা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রেও, যেখানে বিদেশী অংশীদারিত্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১.৫২ শতাংশে এবং এই স্টকটি বিনিয়োগকারীদের সম্পদ প্রায় তিনগুণ করেছে। তালিকায় শক্ত অবস্থান নিয়েছে ওয়েলস্পান কর্প, অ্যাভালন টেকনোলজিস এবং ডায়মন্ড পাওয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মতো নামী সংস্থাও, যেগুলি যথাক্রমে ১৪২ শতাংশ থেকে ১৫৭ শতাংশ পর্যন্ত দুর্দান্ত রিটার্ন উপহার দিয়েছে।
পাশাপাশি, হ্যাপি ফোর্জিংস, ট্যুরিজম ফাইন্যান্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া, ডেকান গোল্ড মাইনস এবং শিবালিক বাইমেটাল কন্ট্রোলসের মতো কোম্পানিগুলিতেও বিদেশী তহবিলের ব্যাপক প্রবাহ লক্ষ্য করা গেছে। এই শেয়ারগুলি এক বছরে ৮৭ শতাংশ থেকে ১৩১ শতাংশ পর্যন্ত লাভজনক রিটার্ন দেওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক পোর্টফোলিওতে নিজেদের জায়গা পাকাপোক্ত করেছে। মতিলাল ওসওয়ালের মতো শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউসগুলির মতে, ভবিষ্যতের বিদেশী বিনিয়োগ মূলত বৈশ্বিক বন্ডের ফলন এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। উদীয়মান বাজারগুলির তুলনায় ভারতীয় শেয়ারবাজারের মূল্যায়ন বর্তমানে উল্লেখযোগ্য প্রিমিয়ামে থাকলেও, সুদৃঢ় আয় ও মৌলিক ভিত্তি সম্পন্ন স্টকগুলি আগামী দিনেও বিশ্বমানের বিনিয়োগ টানতে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।