টয় ট্রেন ভ্রমণে বিশ্বসেরা দার্জিলিং! আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতেই পর্যটন মহলে চরম উন্মাদনা

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের আইকনিক ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে, ‘দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে’ (ডিএইচআর) আবারও বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করল। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভ্রমণ নির্দেশিকা প্রকাশনা সংস্থা ‘লোনলি প্ল্যানেট’-এর মর্যাদাপূর্ণ ‘বেস্ট ইন ট্রাভেল ২০২৭’ তালিকায় বিশ্বের সেরা ৫০টি গন্তব্যের মধ্যে স্থান পেয়েছে দার্জিলিং। শুধু তাই নয়, লোনলি প্ল্যানেট ঐতিহাসিক ডিএইচআর এবং এর পাহাড়ি রেল-ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে বিশ্ব পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে দার্জিলিংকে ‘টয় ট্রেন ভ্রমণের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাহাড়ি এই অঞ্চলের পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন ও সোনালী অধ্যায় যোগ করল।
১৮৮১ সালে চালু হওয়া এই ডিএইচআর দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডে রেলপথ নির্মাণের ক্ষেত্রে তার যুগান্তকারী প্রকৌশলগত দক্ষতার জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও নান্দনিক সৌন্দর্যের কথা মাথায় রেখে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এটিকে ‘মাউন্টেন রেলওয়েজ অফ ইন্ডিয়া’ বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদায় ভূষিত করে। এখানকার প্রাচীন বাষ্পচালিত ইঞ্জিন, ঐতিহাসিক স্টেশন এবং চা-বাগান ও উপত্যকার বুক চিরে চলা আঁকাবাঁকা রেলের পথ পর্যটকদের যুগে যুগে এক অন্যরকম নস্টালজিক ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা উপহার দিয়ে আসছে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের তরফ থেকে ডিএইচআর-কে একটি জীবন্ত ঐতিহ্য এবং আঞ্চলিক পর্যটনের মূল স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরতে সম্প্রতি নানা প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী জয় রাইড, বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের বিশেষ যাত্রা, ঘুম উইন্টার ফেস্টিভ্যাল, স্টেশন মহোৎসব এবং সামার ফেস্টিভ্যাল-এর মতো আকর্ষণীয় আয়োজনগুলি পর্যটকদের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় করেছে। এর ফলে পর্যটকরা কেবল রেলওয়ের সমৃদ্ধ ইতিহাসের সঙ্গেই পরিচিত হচ্ছেন না, বরং পাহাড়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
শুধু বিনোদনই নয়, ডিএইচআর-এর এই পর্যটন উদ্যোগগুলি স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ, পরিবেশগত সচেতনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বশীল পর্যটনের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ডিজিটাল সংরক্ষণ উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে এই রেল ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করছে। লোনলি প্ল্যানেট-এর এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি আগামী দিনে দার্জিলিং পাহাড়ের আর্থ-সামাজিক বিকাশ এবং বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এর আত্মপ্রকাশকে আরও বেশি সুনিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।