জ্ঞানেশ কুমারকে হটাতে ৬টি মারাত্মক অভিযোগ এনে বিস্ফোরক ‘ইন্ডিয়া’ জোট! জানুন কী কী?

পুরনো সংসদ ভবনের ঐতিহাসিক সেন্ট্রাল হলের আদলে তৈরি প্রতীকী সংসদ। আর সেই মঞ্চকেই কেন্দ্র করে শনিবার জাতীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হলো। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের রাজাজি মার্গের বাসভবনে বসল বিরোধীদের এক অভিনব ‘জনতার অধিবেশন’। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরাতে সরাসরি অপসারণের প্রস্তাব আনল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)।

মক পার্লামেন্টে মীরা কুমারের তোপ ও খাড়গের হুংকার

লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমারের সভাপতিত্বে চলা এই প্রতীকী অধিবেশনে শুরুতেই তীব্র আক্রমণ শানানো হয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। মীরা কুমার বলেন, “আপনারা দেখছেন, মানুষের ভোট অবৈধভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কোনো প্রশ্ন করলে অস্বচ্ছ উত্তর মিলছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তিনি জানান, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে জালিয়াতি করে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁরাও এই অধিবেশনে নিজেদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন।

এরপরেই প্রস্তাব পেশ করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে একহাত নেন। তাঁর অভিযোগ, “গণতন্ত্রে ভোটাধিকার একটি মৌলিক বিষয়, যা আজ মারাত্মক সঙ্কটে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করছেন।” খাড়গের আরও দাবি, ক্ষমতা ধরে রাখতে ২০১৪ সাল থেকে সাংসদ কেনা, দল ভাঙানো, ইডি-সিবিআইয়ের অপব্যবহার এবং নির্বাচনী বন্ডের মতো একাধিক ষড়যন্ত্রের পর এবার সরাসরি ‘ভোট চুরি’ করা হচ্ছে।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ৬টি গুরুতর অভিযোগ

বিরোধী শিবিরের আনা প্রতীকী প্রস্তাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মোট ছ’টি সুনির্দিষ্ট ও মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • নির্বাচন চুরির সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

  • ১৩.২ কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।

  • সংসদের অনুমোদন ছাড়াই ফর্ম ৬ (ভোটার তালিকাভুক্তির ফর্ম) পুনর্লিখন।

  • ‘ইসিআইনেট’ (ECINet)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।

  • অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা।

  • এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে কাজ করা।

অধিবেশনে ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা সহ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বহু সাধারণ মানুষও নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিজেপির পালটা আক্রমণ ও চ্যালেঞ্জ

বিরোধীদের এই প্রতীকী সংসদকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে শাসকদল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “বাস্তবের নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন না বলেই রাহুল গান্ধী নিজের পছন্দমতো ছদ্ম সংসদ বা প্রহসনের মঞ্চ সাজিয়েছেন।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত শুক্রবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাহুল গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে ভোটার তালিকা নিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে খোলামেলা বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “আমরা সংসদে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের লুকানোর কিছু নেই, আসুন বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক।” সব মিলিয়ে, এই রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে।