‘জোড়া ফুল প্রতীক আমার আঁকা, মমতা মিথ্যা বলেছিলেন!’ উপনির্বাচনের মুখে বিস্ফোরক দাবি শিল্পীর

“আমার আঁকা জোড়া ফুল চুরি করেছিলেন মমতা!” প্রতীক বাজেয়াপ্ত হতেই বিস্ফোরক দাবি শিল্পী সোমনাথ চৌধুরীর

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই বড়সড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ঘাসফুল শিবির। জোড়া ফুল নাম ও প্রতীক—দুটিই আপাতত তৃণমূলের দুই শিবিরের হাতছাড়া হয়ে ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। আর এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন প্রখ্যাত শিল্পী সোমনাথ চৌধুরী।

সোমনাথ চৌধুরীর সাফ দাবি, তৃণমূলের এই বহুল পরিচিত ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকটি প্রকৃতপক্ষে তাঁরই আঁকা। এতদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রতীক নিয়ে মিথ্যাচার করে এসেছেন বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

“২৮ বছর পর হলেও সত্যের জয় হয়েছে”

নির্বাচন কমিশন প্রতীকটি ফ্রিজ করার খবর পাওয়ার পর নিজের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সোমনাথ চৌধুরী। তিনি বলেন, “এই দলটার শুরুটাই তো মিথ্যা দিয়ে। সেদিন রাতে আমি ঘুমোতেই পারিনি। গতকাল যখন খবর পেলাম যে প্রতীকটা ফ্রিজ হয়ে গেছে, তখন যে কত আনন্দ পেয়েছি বলে বোঝাতে পারব না। নির্বাচন কমিশনকে আমি অসংখ্য নমস্কার জানাই।”

তৃণমূল নেত্রীর প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রবীণ এই শিল্পী আরও যোগ করেন, “আমার কাছ থেকে চুরি করা হয়েছিল। চুরি করা জিনিস কখনও চিরস্থায়ী থাকে না। সত্যের জয় হবেই—২৮ বছর দেরি হলেও আজ শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হলো।”

কাকে প্রতীক দিতে চান সোমনাথ?

বিতর্কিত এই প্রতীকের স্বত্বাধিকার নিয়ে শিল্পী সোমনাথ চৌধুরী স্পষ্ট জানান, দল বা রাজ্য রাজনীতি যদি তাঁকে উপযুক্ত স্বীকৃতি দেয়, তবে তিনি চান এই জোড়া ফুল প্রতীকটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের হাতেই তুলে দেওয়া হোক।

উপনির্বাচনের আগে প্রতীক হাতছাড়া হওয়া এবং তার ওপর জোড়া ফুল আঁকা নিয়ে প্রবীণ শিল্পীর এই চাঞ্চল্যকর দাবিতে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই নিয়ে দলীয় কিংবা আইনি স্তরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কী জবাব দেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর পুরো রাজ্যবাসীর।

Aditi Banik
  • Aditi Banik