এনজেপি স্টেশনে বড়সড় পর্দাফাঁস! ‘বাংলাদেশি’ সেজে ত্রিপুরা সুন্দরী এক্সপ্রেসে ভারতে ঢুকেছিল মায়ানমারের ৪ নাগরিক

ত্রিপুরা সুন্দরী এক্সপ্রেসে আরপিএফের বড় অভিযান! এনজেপি স্টেশনে গ্রেফতার ৪ মায়ানমার নাগরিক

উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন নিউ জলপাইগুড়িতে (NJP) রেলওয়ে সুরক্ষা বল (RPF) এবং জিআরপি (GRP)-র যৌথ অভিযানে ধরা পড়ল চারজন আন্তর্জাতিক অনুপ্রবেশকারী। ত্রিপুরা থেকে পাঞ্জাব যাওয়ার পথে বিশেষ তল্লাশি চালিয়ে এনজেপি স্টেশন থেকে তাঁদের হাতেনাতে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা নিজেদের বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিলেও, তদন্তে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য—ধৃতরা মূলত মায়ানমারের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আত্মগোপন করেছিলেন।

সাধারণ কামরায় গোপন তল্লাশি ও সন্দেহ

রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগরতলা থেকে আনন্দ বিহারগামী ‘ত্রিপুরা সুন্দরী এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছালে আরপিএফ ও জিআরপির একটি যৌথ দল সাধারণ কামরায় (General Bogie) নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চালায়। সেই সময় ট্রেনের কামরায় চার যাত্রীর গতিবিধি ও কথাবার্তায় তীব্র সন্দেহ তৈরি হয় কর্মকর্তাদের।

সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁদের ট্রেন থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।

সীমান্ত টপকে পাঞ্জাব পালানোর ছক

জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম পর্যায়ে ধৃত চারজন দাবি করেন যে তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে পুলিশের টানা জেরার মুখে আসল সত্যি সামনে আসে। পুলিশ সূত্রে দাবি, ধৃতরা মূলত মায়ানমারের অধিবাসী হলেও অনেকদিন ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তারা অবৈধভাবে ভারতের আগরতলা সীমান্ত অতিক্রম করে অনুপ্রবেশ করেন। ভারত থেকে রেলপথে সুদূর পাঞ্জাবে পৌঁছে সেখানে গা ঢাকা দেওয়াই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।

ধৃতদের কাছে ভারতে প্রবেশের বা অবস্থানের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা পাসপোর্ট ছিল না। কোন আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের মাধ্যমে তারা সীমান্ত অতিক্রম করেছিল এবং পাঞ্জাবে তাদের কার সঙ্গে যোগাযোগের কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এনজেপি জিআরপি ও আরপিএফ। আন্তর্জাতিক এই অনুপ্রবেশের পেছনে কোনো বড়সড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।