জেল খাটতে হবে না, কেবিনে মিলবে ফাইভ স্টার সুখ! দুর্নীতিবাজ অফিসারের গোপন ফন্দি ফাঁস করলেন খোদ জেলা জজ!

দলের দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হয়ে জেলযাত্রার কথা থাকলেও, আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে জেলের পরিবর্তে হাসপাতালের সুসজ্জিত কেবিনে দিব্যি রাজকীয় কায়দায় দিন কাটাচ্ছিলেন এক সরকারি আধিকারিক! শুধু তাই নয়, জেলের কড়া নিরাপত্তার বদলে সেই বিশেষ কেবিনের অন্দরে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বান্ধবীও! কর্ণাটকের মান্ডিয়া জেলায় ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ও অবিশ্বাস্য ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা প্রশাসনিক মহলে রীতিমতো শোরগোল ও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
এনডিটিভি-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই সরকারি আধিকারিকের নাম মহম্মদ হুসেইন। তিনি কর্ণাটকের শ্রীরঙ্গাপটনায় অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অফ ল্যান্ড রেকর্ড পদে কর্মরত ছিলেন। একটি দুর্নীতির মামলায় লোকায়ুক্ত পুলিশ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করে। নিয়মানুযায়ী গ্রেফতারির পর অপরাধের দায়ে তাঁকে সোজা জেলে গিয়ে থাকার কথা ছিল।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, জেলের সেলে বন্দি থাকার পরিবর্তে অত্যন্ত সুচতুরভাবে অসুস্থতার ভান করে ওই অফিসার মান্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (MIMS)-এ চিকিৎসার নাম করে ভর্তি হয়ে যান। সেখানে হাসপাতালের অন্দরে তাঁর আরামদায়ক থাকার জন্য এক বিশেষ ও এলাহি বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, হাসপাতালের চিকিৎসক নিজেই পরবর্তী সময়ে প্রকাশ্যে স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, ওই সরকারি আধিকারিকের শরীরে এমন কোনো মারাত্মক রোগ বা অসুস্থতা ছিল না যার জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
এই গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর কানে পৌঁছতেই মান্ডিয়া জেলা ও দায়রা বিচারক সি চন্দ্রশেখর অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি আচমকাই ওই সরকারি হাসপাতালে আকস্মিক হানা দেন এবং সোজা গিয়ে হাজির হন অভিযুক্ত অফিসারের সেই বিশেষ কেবিনের সামনে। বিচারক ঘরে ঢুকে ধৃত ওই আধিকারিকের আসল শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চান চিকিৎসকদের কাছে। তখন হাসপাতালের এক চিকিৎসক সটান স্বীকার করেন যে, ওই অফিসারের হাসপাতালে ভর্তি থাকার মতো কোনো শারীরিক সমস্যা বা অসুস্থতাই নেই।
এখানেই শেষ নয়, বিচারক কেবিনের ভিতরে প্রবেশ করতেই এক তরুণীকে দেখতে পান। তিনি কৌতূহলী হয়ে ওই তরুণীর পরিচয় জানতে চাইলে, তিনি নিজেকে ধৃত সরকারি আধিকারিকের বান্ধবী বলে পরিচয় দেন। এই দৃশ্য দেখে বিচারকের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। কোনো ধরনের গুরুতর রোগ বা অসুস্থতা না থাকা সত্ত্বেও ঠিক কোন অদৃশ্য বলে একজন অভিযুক্ত অপরাধীকে জেল থেকে সোজা হাসপাতালের বিলাসবহুল ঘরে রাখা হলো, তা নিয়ে কড়া জবাব তলব করেন বিচারক।
পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলের আধিকারিকরা বিচারকের সামনে অজুহাত দিয়ে দাবি করেন যে, জেলের নিজস্ব চিকিৎসকের লিখিত পরামর্শেই নাকি ওই অফিসারকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। তাঁরা এও জানান যে, খুব শীঘ্রই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন বিষয়টি আদালতকে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতেন। তবে জেল কর্তৃপক্ষের এমন গা ছাড়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে চরম অসন্তুষ্ট হন বিচারক। তিনি তৎক্ষণাৎ জেল কর্তৃপক্ষ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কড়া ভাষায় সম্পূর্ণ রিপোর্ট তলব করেছেন। ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এবং কার নির্দেশে একজন বন্দি দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারকে জেল থেকে বের করে হাসপাতালে এই ধরনের আভিজাত্যের সুযোগ দেওয়া হলো, তা নিয়ে এখন চলছে জোর প্রশাসনিক তদন্ত।