জেলে বসে আর নয় অপেক্ষা! শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে ঝড় তুলতে প্রস্তুত কংগ্রেস প্রার্থী

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করার মাঝেই বড়সড় স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে সমস্ত ঝুলে থাকা ও বিচারাধীন মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সশরীরে অংশগ্রহণ করা এবং প্রচারে নামার পূর্ণ অধিকার দিয়ে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে এই আইনি সুরক্ষা প্রদান করেছে আদালত। বিচারপতির এই নির্দেশের ফলে এতদিন আইনি বেড়াজালে আটকে থাকা কংগ্রেস প্রার্থীর প্রচারের রাস্তা এবার পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে গেল।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডের বিনিময়ে মিলন প্রধানকে এই অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর শর্তও আরোপ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত কংগ্রেস প্রার্থীকে অবিলম্বে তাঁর ব্যবহৃত সচল ফোন নম্বরটি নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানার আইও (তদন্তকারী কর্মকর্তা)-র কাছে বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখা এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার শর্তেই তাঁকে এই আইনি ছাড় দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, উপনির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে মিলন প্রধানের এই জামিন কংগ্রেস শিবিরকে এক বিরাট নৈতিক শক্তি জোগাল। এতদিন আইনি জটিলতার কারণে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে জোরকদমে প্রচারের ময়দানে নামতে পারেননি তিনি। তবে এবার হাইপ্রোফাইল নন্দীগ্রামের মাটি কামড়ে পড়ে থেকে প্রচারে ঝড় তুলতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ ফুরোনোর আগেই তিনি কীভাবে রাজনৈতিক সমীকরণ পালটে দেন, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।