জেলে নিঃশব্দে মেরে ফেলার চেষ্টা চলছে ইমরান খানকে! দুই ছেলের বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তোলপাড় ক্রিকেট বিশ্ব

২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি রয়েছেন দেশের কিংবদন্তি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এর মধ্যেই তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসছে। সম্প্রতি ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তানের লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে লাঞ্চ ব্রেকের সময় প্রচারিত ইমরান খানের দুই ছেলের একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা।
স্কাই স্পোর্টসের (Sky Sports) জন্য ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল অ্যাথারটন ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেমান খান ও কাশিম খানের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার নেন। সেই সাক্ষাৎকার সম্প্রচারিত হলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) নাকি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, ব্রডকাস্ট করা হলে লাঞ্চের পর পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না। যদিও সেই হুমকি শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। নির্ধারিত সময়েই সাক্ষাৎকারটি অন এয়ার হয় এবং বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররাও নিয়ম মেনে মাঠে নেমে পড়েন।
তবে সেই সাক্ষাৎকারে সুলেমান ও কাশিম যে সমস্ত বিস্ফোরক দাবি করেছেন, তাতে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ব রাজনীতি ও ক্রীড়ামহল। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, বর্তমান পাক সরকার কোনো আইনকানুন না মেনে ইমরান খানকে নিঃশব্দে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।
সাক্ষাৎকারে দুই ভাই বলেন, “ওদের মনবাসনা অত্যন্ত স্পষ্ট। ওঁকে নিঃশব্দে খুনের চেষ্টা চলছে এবং যতদিন সম্ভব জেলে আটকে রেখে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।” শেষবার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় ইমরান খান জানিয়েছিলেন যে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও খারাপ হয়েছে। দিনে ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় তাঁকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি নির্জন সেলে বন্দি রাখা হচ্ছে।
পাশাপাশি, তাঁর চোখের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয় এবং তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তাঁর সন্তানেরা। স্বভাবতই শান্ত স্বভাবের ইমরান খান এই চরম পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েছেন বলে জানান তাঁরা। এর আগে সুনীল গাভাসকর, কপিল দেব ও অ্যালিস্টার কুকের মতো একাধিক প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক অধিনায়ক ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি লিখেছিলেন। এবার তাঁর ছেলেদের এই আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকার পিসিবির মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারের ওপর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।