৩৭০ ধারা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রবল বিস্ফোরণ! শীর্ষ নেতৃত্বকে তুলোধনা করে কী বললেন সাংসদ আগা রুহুল্লাহ?

জম্মু ও কাশ্মীরে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে ৩৭০ ধারা পুনর্বহালের দাবিতে দলীয় নেতৃত্বের অবস্থান নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের (JKNC) শ্রীনগরের সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহেদী। উপত্যকার পূর্ণ রাজ্যর মর্যাদা, মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার এবং স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যুগুলি নিয়ে তিনি যেভাবে দলের অন্দরেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, তাতে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।
দলীয় নেতৃত্বকে লেখা একটি চিঠিতে রুহুল্লাহ মেহেদী গত ২৫ আগস্টের একটি সরকারি বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করেন। ওই বিবৃতিতে নেতৃত্ব প্রশ্ন তুলেছিল যে জনগণ আর কতদিন পরনির্ভরশীল হয়ে থাকবে এবং তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল। মেহেদীর মতে, এই ধরনের মন্তব্য জম্মু ও কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের হতাশারই প্রতিফলন, কারণ এর মাধ্যমে এমন বার্তা যাচ্ছে যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছে হাত পেতে এই অঞ্চলের অধিকার আদায় করতে হবে। অথচ তিনি অতীতে একই দাবি তুললে দলের অভ্যন্তরেই তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।
চিঠিতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, দলের নেতৃত্ব ৩৭০ ধারা বলবৎ দেখতে চাইলেও কেন্দ্রের কাছে যেভাবে দরবার করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। ৩৭০ ধারা পুনর্বহালের দাবি জানানো কখনই ভুল রাজনৈতিক পদক্ষেপ হতে পারে না বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর যুক্তি, খোদ সুপ্রিম কোর্ট এই সাংবিধানিক বিধানের ইতিহাসকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও দল এই অবস্থানে অটল ছিল। তাই হঠাৎ করে অবস্থান পরিবর্তন করে শুধুমাত্র রাজ্যের মর্যাদাকেই একমাত্র রাজনৈতিক প্রাপ্তি হিসেবে মেনে নেওয়া মানে ২০১৯ সালের আগস্টের সাংবিধানিক পরিবর্তনগুলোকেই প্রকারান্তরে বৈধতা দেওয়া। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে রুহুল্লাহর এই বিদ্রোহ ন্যাশনাল কনফারেন্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।