আজ আমরা ১লা জানুয়ারি ঘটা করে নতুন বছর উদযাপন করি, কিন্তু ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, এক সময় ক্যালেন্ডারের রূপ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রাচীন রোমের প্রথম ক্যালেন্ডারে বছর ছিল মাত্র ১০ মাসের! সেই সময়ে বছরের শুরু হতো ১লা মার্চ থেকে। মূলত বসন্তকালীন কৃষি এবং যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখেই মার্চকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে গণ্য করা হতো। সমস্ত উৎসব, সামরিক অভিযান এবং নাগরিক কর্তব্য এই মার্চ-ভিত্তিক ক্যালেন্ডার মেনেই চলত।
ক্যালেন্ডারে আমূল পরিবর্তন আসে প্রায় ৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে (BC), যখন রোমান রাজা নুমা পম্পিলিয়াস জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস দুটি যোগ করেন। তবে রাজনৈতিকভাবে বছরের শুরু ১লা জানুয়ারিতে পিছিয়ে আসে ১৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। রোমান সেনেট এই পরিবর্তন এনেছিল যাতে নবনির্বাচিত সরকারি কর্মকর্তারা সময়মতো দায়িত্ব বুঝে নিতে পারেন এবং সামরিক অভিযানের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান।
পরবর্তীতে জুলিয়াস সিজার যখন ‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’ চালু করেন, তখন তিনি সৌর বছরের সাথে মিল রেখে ১লা জানুয়ারিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বছরের প্রথম দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। এটি করা হয়েছিল দুই মুখ বিশিষ্ট রোমান দেবতা ‘জানুস’-কে সম্মান জানাতে, যিনি একইসাথে অতীত এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে পারেন। এই সংস্কারের মাধ্যমেই প্রথম ‘লিপ ইয়ার’-এর ধারণা সামনে আসে।
রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর মধ্যযুগে খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা ১লা জানুয়ারিকে ‘পৌত্তলিক ঐতিহ্য’ হিসেবে ত্যাগ করেছিলেন। তখন ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে ২৫শে ডিসেম্বর বা ২৫শে মার্চ নববর্ষ পালিত হতো। অবশেষে ১৫৮২ সালে পোপ গ্রেগরি ১৩ ‘গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার’ প্রবর্তন করে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের ত্রুটি সংশোধন করেন এবং পুনরায় ১লা জানুয়ারিকে বছরের প্রথম দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। ক্যাথলিক দেশগুলো দ্রুত এটি গ্রহণ করলেও ব্রিটেন (১৭৫২) বা রাশিয়ার (১৯১৮) মতো দেশগুলো এটি গ্রহণ করতে কয়েক শতাব্দী সময় নিয়েছিল। আজ সারা বিশ্বে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রচলিত হলেও, ভারত, চীন বা ইসলামি সংস্কৃতিতে আজও নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ক্যালেন্ডার মেনে নববর্ষ পালিত হয়।