জলের নামেই কি বিষ খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ? উত্তর দমদম থেকে বড় পদক্ষেপ খাদ্য দফতরের!

খাদ্য দফতর ও প্রশাসনের লাগাতার অভিযানে রাজ্যের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও হোটেল থেকে পচা, নষ্ট হওয়া মাছ ও মাংস উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর তথ্য ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের পর এবার প্রশাসনের কড়া নজর পড়েছে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত সংবেদনশীল পানীয় জলের ব্যবসার ওপর। ভেজাল ও নিম্নমানের পানীয় জলের কারবার রুখতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি ও কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে বিগত দিনে যে সমস্ত প্লান্ট বা কারখানা গড়ে উঠেছে, সেগুলির পানীয় জলের মানদণ্ড কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। সরকারি পরীক্ষায় যে সমস্ত কারখানা নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে সফল হবে, শুধুমাত্র তারাই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাবে। আর যে সমস্ত কারখানা এই পরীক্ষায় ফেল করবে, তাদের লাইসেন্স বাতিল করে তাৎক্ষণিকভাবে সিল করে দেওয়া হবে।

সম্প্রতি উত্তর দমদম পুরসভার বিভিন্ন এলাকায় অনুমতিহীন ও বেআইনিভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ভেজাল জলের কারখানা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও অভিযোগ তৈরি হয়েছিল। চলতি বছরের অগাস্ট মাসেই এই ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার। শুধু উত্তর দমদমই নয়, অতীতেও কলকাতা এবং রাজ্যের একাধিক জেলা থেকে ভেজাল ও অনিরাপদ পানীয় জল বিক্রির রমরমা কারবারের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠেছে। বাজারের সস্তা প্লাস্টিকের বোতল বা জারবন্দি জলের বিশুদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নচিহ্ন ঝুলছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশুদ্ধ পানীয় জলের নামে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ রমরমা কারবার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক ও নীরব হুমকি ডেকে আনছে। অপরিশোধিত ও ব্যাকটেরিয়াযুক্ত জল পানের ফলে জন্ডিস, কলেরা, টাইফয়েড এবং পেটের নানা জটিল রোগের ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় খাদ্য দফতরের এই নতুন ও কঠোর নজরদারি কতটা সফল হবে এবং আগামী দিনে প্রশাসন কি সত্যিই এই ভেজাল পানীয় জলের রমরমা কারবার চিরতরে বন্ধ করতে পারবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সাধারণ মানুষও এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই জোরালো প্রশাসনিক পদক্ষেপের বাস্তবায়নের জন্য।