জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে বড় বিপদের মুখে উত্তর ভারত! আইআইটি রুরকির গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

শুধু শীতকাল নয়, এবার বসন্তকালেও হিমালয়ের আবহাওয়ায় বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বা ওয়েস্টার্ন ডিস্টার্বেন্স (WD)। আইআইটি রুরকি (IIT Roorkee)-র সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময়ের জলবায়ু ও বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন যে, জলবায়ু উষ্ণায়নের জেরে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার গতিপথ, সক্রিয়তার সময় এবং এর অন্তর্নিহিত গঠন।

সাধারণত শীতের মাসগুলিতেই পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে হিমালয় ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টি ও তুষারপাত হতে দেখা যায়। তবে নতুন এই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে, বর্তমানে মার্চ থেকে মে মাস—অর্থাৎ প্রাক্-মৌসুমি বা বসন্তকালেও পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব ও সক্রিয়তা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই আবহাওয়া ব্যবস্থাটি আগের তুলনায় অনেক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ভারতীয় উপমহাদেশে পৌঁছানোর আগে বায়ুমণ্ডল থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করছে। এর ফলে এই সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও তীব্রতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যেহেতু হিমালয়ের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ভঙ্গুর, তাই পাহাড়ি ঢালে এই অতিরিক্ত ও আকস্মিক বৃষ্টিপাত মুহূর্তের মধ্যে ভয়ংকর হড়পা বান বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড (Flash Flood) এবং ভয়াবহ ভূমিধসের সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আইআইটি রুরকির হাইড্রোলজি বিভাগের পিএইচডি গবেষক স্পন্দিতা মিত্র এবং অধ্যাপক অঙ্কিত আগরওয়াল উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলি বৃহত্তর বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনেরই ফল। আইআইটি রুরকির ডিরেক্টর প্রফেসর কে কে পন্থও এই গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, হিমালয়ের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জলবায়ু সহনশীলতার পরিকল্পনা এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র শীতকালীন পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর না করে মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যেও পশ্চিমী ঝঞ্ঝার গতিবিধির ওপর কঠোর ও নিবিড় নজরদারি চালানো অত্যন্ত জরুরি।